কীর্তণখোলা নদীতে নৌকা থেকে চাঁদাবাজির ঘটনায় মামলার নির্দেশ আদালতের

কীর্তণখোলা নদীতে ভাড়ায় চালিত নৌকা ও ট্রলার থেকে চাঁদা আদায়ের ঘটনায় মামলার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরিশালের কীর্তণখোলা নদীর ত্রিশ গোডাউন পর্যটনকেন্দ্র এলাকায় ভাড়ায় চালিত নৌকা ও ট্রলার থেকে চাঁদা আদায়ের ঘটনায় স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে এজাহারকারী করে মামলা দায়ের করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসিকে।
বুধবার বরিশালের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম ও জাস্টিস অব দ্য পিস এস এম শরিয়ত উল্লাহ এ আদেশ দেন।
আদেশের বরাত দিয়ে বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার জানান, কীর্তণখোলা নদীর তীরবর্তী ত্রিশ গোডাউন এলাকা বরিশাল নগরীর অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র। প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যটকেরা সেখানে বেড়াতে আসেন। কীর্তণখোলা নদীতে নৌভ্রমণ ওই এলাকার প্রধান আকর্ষণগুলোর একটি।
আদালতের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়, গত ১০ জুলাই জাস্টিস অব দ্য পিস ঘটনাস্থলে অবস্থানকালে নদীর তীরে থাকা নৌকা ও ট্রলার থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করতে দেখেন। এ সময় গোপনে চাঁদা আদায়ের ভিডিও ধারণ করা হয়।
একাধিক মাঝির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাঈম নামে এক ব্যক্তি তার প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রতিদিন ত্রিশ গোডাউন এলাকার নৌকা ও ট্রলার থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করেন।
একজন মাঝি জানান, আগে কখনো এ ধরনের চাঁদা দিতে হয়নি। চাঁদা আদায়ের কারণে মাঝিরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। একই সঙ্গে পর্যটকদেরও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড গুরুতর আইন লঙ্ঘন এবং শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ। জনস্বার্থ ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ঘটনায় দণ্ডবিধির চাঁদাবাজিসহ দ্রুত বিচার আইনের আমলযোগ্য অপরাধের উপাদান থাকায় একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে এজাহারকারী করে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট স্থানটি সরকারি ইজারাভুক্ত কি না, কত দিন ধরে কতজন মাঝির কাছ থেকে কত টাকা করে আদায় করা হচ্ছে এবং এ অর্থ আদায়ের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কারা জড়িত, তাদের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানাসহ বিস্তারিত তথ্য আদালতে উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন জাস্টিস অব দ্য পিস এস এম শরিয়ত উল্লাহ।




