হলিউডে বায়োপিক কেন হিট

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
গত ২৪ এপ্রিল মুক্তিপ্রাপ্ত প্রয়াত পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক ‘মাইকেল’ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করেছে। এর আগে পারমাণবিক বোমা তৈরির প্রকল্প তদারকি করা পদার্থবিদ জে. রবার্ট ওপেনহাইমারের বায়োপিক ২০২৩ সালে আয় করে ৯৭ কোটি ৬৮ লাখ মার্কিন ডলার। কুইন ব্যান্ডের প্রয়াত গায়ক ফ্রেডি মার্কারির বায়োপিক ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’ ২০১৮ সালে ব্যবসা করেছে ৯১ কোটি ১০ লাখ ডলার। এমন নজির অসংখ্য। অনেকের কৌতূহল, বায়োপিক কেন হিট হয়? এ সাফল্যের চালিকাশক্তি মূলত কয়েকটি। মোটাদাগে বলা যায়, বিখ্যাত কিংবা প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের প্রতি মানুষের দুর্নিবার আগ্রহ এবং নস্টালজিয়ার সম্মিলনে সাফল্য পায় জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র।
আগে থেকেই পরিচিত ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের জীবন অবলম্বনে তৈরি হওয়ায় বায়োপিকের প্রতি মানুষের মধ্যে আলাদা কৌতূহল কাজ করে। যাদের জীবনকে ভিত্তি করে সিনেমা তৈরি হয়, তাদের নিবেদিতপ্রাণ ভক্তগোষ্ঠী থাকে যারা প্রেক্ষাগৃহে ভিড় জমায়। এ ছাড়া নস্টালজিয়ার অনুভূতি তো আছেই। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১০-১৮ বছর বয়সে যেসব গান বেশি শোনা হয়, সেগুলো সারাজীবন আবেগের অংশ হয়ে থাকে। ফলে বহু বছর পর সেই শিল্পীকে নিয়ে সিনেমা মুক্তি পেলে দর্শক যেন নিজের কৈশোরে ফিরে যান। আর এ আবেগই প্রেক্ষাগৃহে ব্যাপক দর্শক টেনে আনার অন্যতম চাবিকাঠি। বায়োপিকের গল্প নিয়ে রহস্য থাকে না। তবু দর্শক প্রেক্ষাগৃহে যায়, কারণ তারা চেনা মানুষটিকে আবারও অনুভব করতে চান। পরিচিত গান যখন প্রেক্ষাগৃহে বাজে, তখন সেটি দর্শকের স্মৃতি ও আবেগ ছুঁয়ে যায়। এসব সিনেমা অস্কারসহ হলিউডের বিভিন্ন পুরস্কারের ক্ষেত্রে থাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। যেমন ‘ওপেনহাইমার’, ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’, ‘রে’, ‘ওয়াক দ্য লাইন’, ‘এলভিস’।
শীর্ষ ১০ বায়োপিক
সর্বকালের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ১০ বায়োপিকের তালিকায় ‘মাইকেল’, ‘ওপেনহাইমার’ ও ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’র পরই রয়েছে চীনা নির্মাতা ও অভিনেত্রী জিয়া লিং এবং তার মা লি হুয়ানইংয়ের বাস্তব জীবনে অনুপ্রাণিত ‘হাই, মম’ (২০২১)। এটি আয় করেছে ৮২ কোটি ১৭ লাখ ডলার। যিশুখ্রিস্টের জীবনের শেষ ১২ ঘণ্টার ঘটনা নিয়ে নির্মিত ‘দ্য প্যাশন অব দ্য ক্রাইস্ট’ (২০০৪) ৬১ কোটি ২১ লাখ ডলার, মার্কিন নৌবাহিনীর কিংবদন্তি স্নাইপার ক্রিস কাইলের জীবনী অবলম্বনে নির্মিত ‘আমেরিকান স্নাইপার’ (২০১৪) ৫৪ কোটি ৭৭ লাখ ডলার, উনিশ শতকের মার্কিন সীমান্ত অভিযাত্রী হিউ গ্লাসের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত ‘দ্য রেভেন্যান্ট’(২০১৫) ৫৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার, অতিপ্রাকৃত ঘটনা অনুসন্ধানকারী এড ও লরেইন ওয়ারেনের বাস্তব কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত ‘দ্য কনজুরিং: লাস্ট রাইটস (২০২৫) ৪৯ কোটি ৯৩ লাখ ডলার, ‘দ্য গ্রেটেস্ট শোম্যান’ (২০১৭) ৪৭ কোটি ১৮ লাখ ডলার, মার্কিন শোম্যান ও সার্কাস উদ্যোক্তা পিটি বার্নামের জীবন নিয়ে নির্মিত সংগীতনির্ভর চলচ্চিত্র ‘দ্য গ্রেটেস্ট শোম্যান’ (২০১৭) ৪৭ কোটি ১৮ লাখ এবং চীনা সেনা কর্মকর্তা শিয়ে জিনইউয়ান এবং ১৯৩৭ সালের সাংহাই যুদ্ধের বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত ‘দ্য এইট হান্ড্রেড’ (২০২০) ৪৬ কোটি ১৪ লাখ ডলার আয় করেছে।
হলিউডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বায়োপিক মানেই যেন টাকার খনি! বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ধারাবাহিকভাবে বক্স অফিসে আধিপত্য বিস্তার করে।
হরর বনাম মিউজিক্যাল



