ইউনেসকোর প্রতিবেদন
শিক্ষা ব্যয়ে তলানিতে বাংলাদেশ
- ১৮১ দেশের মধ্যে ১৬৪তম
- শীর্ষ ৪০ অর্থনীতির দেশের মধ্যে ৩৮তম

সংগৃহীত ছবি
মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। ইউনেসকো ইনস্টিটিউট ফর স্ট্যাটিস্টিকসের (ইউআইএস) ২০২৫ সালের তথ্যভিত্তিক বৈশ্বিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৮১ দেশের তালিকায় শিক্ষায় জিডিপির অংশ ব্যয়ের হিসাবে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৪তম।
যদিও নতুন অর্থবছরের (২০২৬-২৭) জন্য বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে বাড়িয়েছে বাজেট বরাদ্দ। এ খাতে মোট জিডিপি ২ শতাংশে উন্নীত করে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ৮ জুলাই জাতীয় সংসদে বলেছেন, নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা খাতের মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ইউআইএসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ ব্যয় করে। এই হার ইউনেসকোর সুপারিশকৃত ৪ থেকে ৬ শতাংশ ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম।
বিশ্বব্যাপী শিক্ষা খাতে জিডিপির বেশি অংশ ব্যয়কারী শীর্ষ পাঁচটি দেশ হচ্ছে— কিরিবাতি (১৬.৪ শতাংশ), টুভালু (১২.৮ শতাংশ), মাইক্রোনেশিয়া (১১.৬ শতাংশ), নামিবিয়া (৯.১ শতাংশ) ও আলজেরিয়া (৯ শতাংশ)। বিপরীতে তালিকার নিচের দিকে অবস্থান করছে বাংলাদেশ (১৬৪তম), মিয়ানমার (১৬৫তম), পাকিস্তান (১৬৬তম), শ্রীলঙ্কা (১৭০তম), ইন্দোনেশিয়া (১৭৪তম), সোমালিয়াসহ (১৮১তম) কয়েকটি দেশ।
শীর্ষ ৪০ অর্থনীতির মধ্যে বাংলাদেশ ৩৮তম: ইউআইএসের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জিডিপির অনুপাতে শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয়ে বাংলাদেশ শীর্ষ ৪০ অর্থনীতির মধ্যে ৩৮তম অবস্থানে রয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশের নিচে রয়েছে শুধু পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া। অন্যদিকে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির মতো দেশগুলো তুলনামূলকভাবে শিক্ষা খাতে বেশি বিনিয়োগ করছে। এ তালিকায় শীর্ষে থাকা পাঁচ দেশ হচ্ছে— সুইডেন (৭.৩ শতাংশ), ডেনমার্ক (৬.৪ শতাংশ), বেলজিয়াম (৬.৩ শতাংশ), দক্ষিণ আফ্রিকা (৬ শতাংশ) ও ইসরায়েল (৫.৯ শতাংশ)।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ আগামীর সময়কে বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারিত হলেও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ সেই অনুপাতে বাড়েনি। তিনি মনে করেন, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চাহিদা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ও বরাদ্দের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেছেন, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি বরাদ্দের অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মানসম্মত শিক্ষা দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।




