উজিরপুর
হাসপাতাল ৫০ শয্যার, ভর্তি দ্বিগুণ রোগী

ছবি: আগামীর সময়
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যার। অথচ গত কয়েক মাস ধরে প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০ জন রোগী ভর্তি থাকছেন। অনুমোদিত শয্যার প্রায় দ্বিগুণ রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। ভর্তি রোগীর পাশাপাশি প্রতিদিন বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসছেন ২০০ থেকে ৩০০ জন। ফলে শয্যা, জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও খাবার—সব ক্ষেত্রেই বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৪৬, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৫৮ এবং হাম আক্রান্ত পাঁচজন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ৫০ শয্যার বিপরীতে ৮০ থেকে ৯০ জন রোগী ভর্তি থাকায় অতিরিক্ত রোগীদের শয্যার বাইরে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরও কাজের চাপ বাড়ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই নির্ধারিত শয্যার তুলনায় বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছেন। সীমিত জনবল ও অবকাঠামোর মধ্যে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়ছে। এর সঙ্গে বহির্বিভাগে প্রতিদিন কয়েক শ রোগীর উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও চাপের মধ্যে ফেলেছে। ফলে চিকিৎসকদের ভর্তি রোগীদের দেখভালের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক বহির্বিভাগের রোগীকেও সেবা দিতে হচ্ছে।
চলতি মাসে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন—মাদারসী গ্রামের জাকির হাওলাদার (৪৫), কচুয়া গ্রামের শাহজাহান বালি (৭১), বরতা গ্রামের আমেনা (৮ মাস) ও রাকুদিয়া গ্রামের মেরিনা (৭৫)।
তবে তাদের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা চিকিৎসাকালীন জটিলতার সঙ্গে হাসপাতালের অতিরিক্ত রোগীর চাপের কোনো সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে চিকিৎসা নথি ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বক্তব্য প্রয়োজন।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, ৫০ শয্যার জন্য নির্ধারিত ব্যবস্থাপনায় প্রায় দ্বিগুণ রোগীর খাবার সরবরাহ করতে গিয়ে চাপ তৈরি হচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীদের জন্য খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবার বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
রোগী ও স্বজনেরা বলছেন, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসায় হাসপাতালের বর্তমান সক্ষমতা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, শয্যা ও জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং খাবারের বরাদ্দও বাড়ানো দরকার।
মাহার গ্রামের ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী মো. রাসেল বলেন, রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। শয্যার তুলনায় রোগী বেশি হওয়ায় চিকিৎসা নিতে নানা ধরনের ভোগান্তি হচ্ছে।
বামরাইল ইউনিয়নের মুন্ডুপাশা গ্রামের রাফিয়া বলেন, রোগী বেশি থাকায় হাসপাতালে বেশ চাপ দেখা যাচ্ছে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত মো. ওয়াসিম বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছি। হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেশি।
ডায়রিয়া আক্রান্ত মলি বলেন, হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেশি। এতে চিকিৎসা নিতে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হামিদা আক্তার বলেন, হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। ৫০ শয্যার বিপরীতে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকায় কিছুটা চাপ তৈরি হচ্ছে। তবে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করছেন। ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও হামসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। খাবার ও অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত রোগীর চাপের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল, শয্যা, ওষুধ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রয়েছে।





