গঙ্গাচড়ায় সড়কে ধান শুকানোয় কঠোর হচ্ছে প্রশাসন

ছবি: আগামীর সময়
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে উপজেলা প্রশাসন। সড়কে ধান, খড়, ভুট্টাসহ বিভিন্ন শস্য শুকানো এবং সড়কের ওপর বা পাশে খড়ের গাদা করে রাখার বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে কঠোর অবস্থান।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে জনসাধারণকে। নির্দেশনা অমান্য করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার জানিয়েছেন, মহাসড়ক আইন, ২০২১ অনুযায়ী মহাসড়কে ফসল, খড় বা অন্য কোনো পণ্য শুকানো কিংবা এ ধরনের কাজে সড়ক ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু প্রতিবছর বোরো মৌসুমে অনেকে মহাসড়ক দখল করে ধান শুকান। এতে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
তিনি জানালেন, এলাকায় এরই মধ্যে মাইকিং করে সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও কেউ নির্দেশনা অমান্য করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানাসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের মন্থনা এলাকায় ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী একই পরিবারের তিনজন নিহত হন।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন পশ্চিম মান্দ্রাইন গ্রামের বাসিন্দা ও পল্লিচিকিৎসক প্রশান্ত চন্দ্র রায় (৩৫)। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান তার বাবা নির্মল চন্দ্র রায় (৭৫)। আর গুরুতর আহত প্রশান্তের সাত বছর বয়সী ছেলে বন্ধন চন্দ্র রায়কে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেও মারা যায়। এতে দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা একই পরিবারের তিনজনে দাঁড়িয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নির্মল চন্দ্র রায়, তার ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র রায় এবং নাতি বন্ধন চন্দ্র রায় মোটরসাইকেলে করে গঙ্গাচড়ার তুলশীরহাটে একটি দাওয়াতে যাচ্ছিলেন। পথে মন্থনা এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস ছবুর আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





