আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের অপেক্ষায় পর্যটন নগরী

ছবি: আগামীর সময়
অবশেষে নতুন ঠিকানায় যাত্রা শুরু করল কক্সবাজার বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা। প্রায় ১৮ হাজার বর্গমিটার আয়তনের নবনির্মিত আন্তর্জাতিক মানের টার্মিনালে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হয়েছে।
সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে ৭০ যাত্রী নিয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট নতুন টার্মিনাল থেকে প্রথমবারের মতো উড্ডয়ন করে।
এখন থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা, নভোএয়ার ও এয়ার অ্যাস্ট্রাসহ কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী অভ্যন্তরীণ এয়ারলাইন্সগুলো নতুন টার্মিনাল ব্যবহার করবে।
নতুন স্থাপনায় যাত্রীসেবা স্থানান্তরের ফলে পুরনো টার্মিনালের অতিরিক্ত ভিড় ও জায়গাসংকটের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন টার্মিনালে রয়েছে ১৪টি চেক-ইন কাউন্টার, ১০টি ইমিগ্রেশন ডেস্ক, দুটি আধুনিক ব্যাগেজ ক্লেইম বেল্ট, সাতটি স্ক্যানার, মেটাল ডিটেকশন ও হোল্ড ব্যাগেজ স্ক্যানিং ব্যবস্থা। যাত্রীদের চলাচলের জন্য রয়েছে চারটি এসকেলেটর ও ছয়টি লিফট। রয়েছে বোর্ডিং ব্রিজ এবং আধুনিক লাগেজ হ্যান্ডলিং ব্যবস্থাও। টার্মিনালটির বার্ষিক যাত্রী ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা প্রায় ২০ লাখ।
সোমবার নতুন টার্মিনাল ঘুরে দেখেছেন যাত্রীরাও। ঢাকা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটক মোহাইমিনুল ইসলাম বলেন, নতুন টার্মিনালের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। লাগেজ পেতেও কোনো সমস্যা হয়নি। আকাশপথে যাত্রীসেবায় এমন পরিবেশ কক্সবাজারে প্রয়োজন ছিল।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের কক্সবাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুসা আহমেদ বলেছেন, নতুন টার্মিনালের আগমন ও বহির্গমন এলাকা প্রশস্ত। বোর্ডিং লাউঞ্জও বড় ও আধুনিক। আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা থাকায় যাত্রীদের পাশাপাশি এয়ারলাইন্সগুলোর জন্যও এটি সুবিধাজনক হবে।
বেবিচকের সদস্য এয়ার কমোডর মো. নূর-ই-আলম বললেন, পুরনো টার্মিনালে ৪০০-৫০০, কখনো সাড়ে ৫০০ যাত্রীও থাকতেন। এতে ধারণক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতো। নতুন টার্মিনালে বড় পরিসরের জায়গা, পর্যাপ্ত চেক-ইন কাউন্টার ও বসার সুবিধা রয়েছে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিচালনাগত কোনো সমস্যা থাকলে তা চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত টার্মিনালটির আয়তন প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৫ বর্গমিটার। এতে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য ৪৫০ আসনের প্রস্থান লাউঞ্জ, শুল্কমুক্ত দোকান, আগমন লাউঞ্জ, ইমিগ্রেশন কাউন্টার, কনভেয়ার বেল্টসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়েছে।
এদিকে নতুন টার্মিনালের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমানবন্দরের রানওয়েও প্রস্তুত করা হয়েছে। সমুদ্রের দিকে রানওয়ে ১ হাজার ৭০০ ফুট সম্প্রসারণের ফলে এর দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৭০০ ফুট। রানওয়ের অ্যাসফল্ট ওভারলে, লাইটিংসহ সংশ্লিষ্ট কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের সমন্বয়ক এম মোশাররফ হোসেন বললেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী অক্টোবর থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হতে পারে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমানবন্দর এখন প্রস্তুত।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষও অক্টোবরের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। এর আগে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানিয়েছিলেন, অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম নতুন টার্মিনালে স্থানান্তরের পর পরবর্তী ধাপে আন্তর্জাতিক কার্যক্রম চালু করা হবে।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনাকে কক্সবাজারের পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নতুন সুযোগ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেছেন, সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে বিদেশি পর্যটকদের কক্সবাজারে আসার সুযোগ বাড়বে। এর প্রভাব পড়তে পারে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও।
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কয়েক বছর ধরে অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২১ সালের ২৯ আগস্ট শুরু হওয়া প্রকল্পের আওতায় টার্মিনাল নির্মাণ, রানওয়ে সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ করা হয়েছে।
নতুন টার্মিনাল চালুর মধ্য দিয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দর এখন আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করল। আর অক্টোবরের সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর দিকে এখন তাকিয়ে পর্যটন নগরী কক্সবাজার।




