২৫ দিন পানি নেই রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, সেবা বন্ধের শঙ্কা

রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
তীব্র পানি সংকটে ব্যাহত হচ্ছে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম। গত ১১ মে পানি নেই হাসপাতালে। যে কোনো সময় চিকিৎসাসেবা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রোগী ও স্বজনদের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখন পুকুর থেকে মোটর দিয়ে পানি তুলে মেটাচ্ছেন টয়লেটের পানির চাহিদা।
প্রায় ৫৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার সময় স্থাপিত সাবমারসিবল টিউবওয়েলটি পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়ায় এ সংকট বলে জানাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এতে হাসপাতালে ভর্তি ৮২ রোগী, তাদের স্বজন এবং প্রতিদিন বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসা শ শ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। ভুগছেন হাসপাতালের কোয়ার্টারে থাকা চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের ৯ পরিবারও। পানি না থাকায় পরিষ্কার করা যাচ্ছে না হাসপাতাল, চারদিকে ছড়িয়েছে দুর্গন্ধ। রোগী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
চিকিৎসা নিতে আসা রুস্তম আলী বললেন, ‘পানি ছাড়া, চিকিৎসা নিয়েও আবার রোগী হয়ে যাই। হাসপাতালে পানির অভাব অমানবিক। আমরা দ্রুত সমাধান চাই।’
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী রোগীদের ক্ষোভ, একটি সরকারি হাসপাতালে ২৫ দিন ধরে পানি না থাকা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা জরুরি তহবিল বা বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত সুপেয় ও ব্যবহারযোগ্য পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাইলেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ।
হাসপাতাল প্রশাসন জানিয়েছে, স্থানীয় সিভিল সার্জন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের উদ্যোগে নতুন একটি গভীর নলকূপ স্থাপনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়। সংশ্লিষ্ট প্রধান প্রকৌশলীকে বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ বাজেট থেকে নলকূপ স্থাপনের লিখিত নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
তবে চলতি অর্থবছরের শেষ পর্যায়ে এসে তার তহবিলে কোনো অর্থ অবশিষ্ট না থাকায় এগোয়নি সে কাজ। সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কাজের অগ্রগতি জানতে চাইলে বিষয়টি সামনে আসে। ফলে চলতি অর্থবছরে সংকট নিরসনের সম্ভাবনা ক্ষীণ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবুল খায়ের রাসেলের দাবি, ‘ভেবেছিলাম স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পানি সমস্যার শিগগিরি সমাধান হবে। কিন্তু আইনি ও আর্থিক জটিলতায় তা আর হচ্ছে না। পানির এই তীব্র অভাব আর কিছুদিন স্থায়ী হলে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসাসেবা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়তে পারে।’
ঝালকাঠি স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. বাহারুল ইসলাম জানান, পানি সংকট সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





