১৩ বছরের জোবাইদের ওজন ৫

১৩ বছর বয়সে জোবাইদের উচ্চতা ২৮ ইঞ্চি, ওজন মাত্র ৫ কেজি
গ্রামের পথ ধরে যখন সমবয়সীরা স্কুলে যায়, তখন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে তাদের দেখেই সময় কাটে জোবাইদের। দেখতে দুই বছরের শিশুর মতো হলেও তার বয়স ১৩ বছর। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কুশমাইল ইউনিয়নের নিউগী কুশমাইল মধ্যপাড়া গ্রামের এই কিশোরের উচ্চতা মাত্র ২৮ ইঞ্চি, ওজন ৫ কেজি।
রিকশাচালক মো. হাবিবুল্লা ও মোমেনা খাতুন দম্পতির চার সন্তান। তাদের মধ্যে তৃতীয় জোবাইদ। গর্ভধারণের সময় মায়ের জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের এক মাস আগেই সিজারের মাধ্যমে তার জন্ম হয়। জন্মের সময় ওজন ছিল মাত্র এক কেজি। বয়স বাড়লেও শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়নি। একই পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান, ১৪ বছরের জোনায়াদও শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী।
বসতভিটা ছাড়া কোনো জমিজমা নেই হাবিবুল্লার। রিকশা চালিয়েই ছয় সদস্যের সংসার চলে। একসময় উপজেলা ও জেলা শহরে চিকিৎসা করানো হলেও পাঁচ বছর ধরে অর্থাভাবে তা বন্ধ। দুই সন্তান প্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও সেই অর্থও ব্যয় হয়ে যায় সংসারের প্রয়োজনে।
তবু গ্রামের মানুষের ভালোবাসা জোবাইদকে একা থাকতে দেয় না। বাড়ির পাশের ডাল্লার মোড়ে মানুষের আড্ডায় গিয়ে চুপচাপ বসে থাকে সে। কম কথা বললেও মুখে লেগে থাকে হাসি। স্থানীয়রা স্নেহ করে তাকে ‘নেতা’ বলে ডাকেন। তবে বড় ভাই জোনায়াদ বাকপ্রতিবন্ধী; বেশিরভাগ সময় মায়ের কোলে বা ঘরেই কাটে তার।
সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে মায়ের কষ্ট তাই আরও গভীর। মোমেনা খাতুনের আক্ষেপ, চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিলেও অভাবের কারণে তা সম্ভব হয়নি। অন্য শিশুরা যখন স্কুলে যায়, খেলাধুলা করে, তখন নিজের সন্তানদের দিকে তাকিয়ে বুক ভেঙে যায়।
চিকিৎসকরা বলছেন, ১৩ বছরের একটি ছেলে শিশুর আদর্শ ওজন ৩৫-৫২ কেজি ও উচ্চতা ৫১-৬১ ইঞ্চি হয়ে থাকে। জোবাইদের ওজন ও উচ্চতা অস্বাভাবিক।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মোহা. হারুন আল মাকসুদের ভাষায়, ‘বয়সের তুলনায় তাদের দুই ভাইয়ের উচ্চতা ও ওজন অস্বাভাবিক; এটি জিনগত সমস্যার কারণে হতে পারে। অবশ্য উন্নত চিকিৎসা ও বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে থাকলে কিছুটা উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।’




