চকরিয়ায় উত্তেজনা
প্রেমিক যুগলকে মারধরের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কক্সবাজারের চকরিয়ায় এক প্রেমিক যুগলকে পুলিশের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উত্তেজনার। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের মারধরে গুরুতর আহত হয়েছেন নুরুল আমিন (২৩) নামে এক যুবক। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছাইরাখালী উত্তরপাড়া গ্রামে ঘটে এ ঘটনা। আহত নুরুল আমিন ওই গ্রামের নুরু মাঝির ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, ছাইরাখালী গ্রামের নুরুল আমিনের সঙ্গে কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার এক মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে বাড়ি থেকে চলে যান তারা। পরে শুক্রবার দুই পরিবারের মধ্যে বৈঠক হয়। বৈঠকে সমঝোতার ভিত্তিতে দেনমোহর নির্ধারণ করে তাদের বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
তবে মেয়ের পরিবার এ সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে অপহরণের অভিযোগ তুলে চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়। অভিযোগের ভিত্তিতে উপপরিদর্শক (এসআই) আরকানুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি পুলিশ দল নুরুল আমিনের বাড়িতে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মেয়েটিকে উদ্ধার করতে গেলে নিজের পরিবার বা পুলিশের সঙ্গে যেতে রাজি হয়নি সে। এ সময় নুরুল আমিন ও মেয়েটির পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ছেলে ও মেয়ে দুজনকেই লাঠি দিয়ে মারধর করেন এসআই আরকানুল ইসলাম। এতে নুরুল আমিন অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্থানীয়রা।
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পুলিশের ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়। পরে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেনের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ওসি মো. মনির হোসেন বলেছেন, ‘মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ দেন বাবা। এ অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করতে গেলে নুরুল আমিন ছুরি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। মূলত ভিকটিমকে উদ্ধারের চেষ্টা করেছে পুলিশ। পরে পুলিশের ওপর হামলা চালানৈ হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’
তার দাবি, ‘পুলিশের একটি জিপগাড়িতে ইট মেরে গ্লাস ভেঙে দিয়েছে আক্রমণকারীরা। এ ছাড়া থানার এসআই আরকানুল ইসলাম ও আরেক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা সিএনজিটি ভিকটিমের পরিবার ঘটনাস্থলে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করেছিল।’
চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিত দাস বলেছেন, ‘ভিকটিম উদ্ধারে গেলে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভিডিওতে মারধরের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’






