ডেঙ্গু ঠেকাতে আগাছা পরিষ্কার করছেন ইউএনও

দা হাতে আগাছা পরিষ্কার করছেন ইউএনও এ টি এম কামরুল ইসলাম। ছবি: আগামীর সময়
শুধু নির্দেশনা নয়, পরিচ্ছন্নতার কাজে নিজেই মাঠে নেমেছেন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম কামরুল ইসলাম। হাতে পরিচ্ছন্নতার সরঞ্জাম নিয়ে তিনি অংশ নিয়েছেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযানে।
আজ শনিবার সকালে কালীগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও অংশ নেন। ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করাই ছিল এ অভিযানের মূল লক্ষ্য।
অভিযানে ইউএনও এ টি এম কামরুল ইসলামের সঙ্গে ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন হালদার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশীদ, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামল কুমার দত্ত এবং বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির মাস্টার। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এতে অংশ নেন।
অভিযানের অংশ হিসেবে উপজেলা পরিষদ চত্বর, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর, কালীগঞ্জ বাজার বাসস্ট্যান্ড, মূলগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং মশক নিধনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে অংশ নিয়ে বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির মাস্টার জানিয়েছেন, পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। নিজেদের বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি যেখানে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকে, তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে। সবাই সচেতন হলে মশার বিস্তার ও মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশীদ বলেছেন, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জরুরি। মশার বংশবিস্তারের উপযোগী স্থান ধ্বংস করতে হবে। বাড়ি ও কর্মস্থলের আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা একসঙ্গে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ইউএনও এ টি এম কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং মশার বিস্তার রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত কার্যক্রম চালানো হবে। তবে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল হতে হবে। কোথাও ময়লা-আবর্জনা বা পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।




