শ্যালককে বাঁচাতে গিয়ে নিহত দুলাভাই

নিহত মো. রঞ্জু মিয়া (৫২)। ছবি: সংগৃহীত
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ছুরি মেরে মো. রঞ্জু মিয়া (৫২) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তার শ্যালক খোরশেদ আলম (৪০) ও ছেলে মো. জুবায়ের (২৫) আহত হয়েছেন। স্বজনদের দাবি, শ্যালককে অপহরণের চেষ্টা থেকে রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ হারান রঞ্জু মিয়া।
সোমবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের ঘাষিড়া গ্রামের জরজিসের ইটভাটা-সংলগ্ন এলাকার ঘটনা এটি। নিহত রঞ্জু মিয়া ঘাষিড়া গ্রামের মৃত ফজলালের ছেলে। পেশায় গৃহনির্মাণ শ্রমিক ছিলেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, জরজিসের ইটভাটার পাশে রঞ্জু মিয়ার বাড়ি। সোমবার রাতে ইটভাটার এক পাশে মাদকসংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে অজ্ঞাত কয়েকজনের সঙ্গে খোরশেদ আলমের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা খোরশেদকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি দেখে রঞ্জু মিয়া ও তার ছেলে জুবায়ের এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।
এ সময় রঞ্জু মিয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরি মেরে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত খোরশেদ আলম ও জুবায়েরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়ে যান তারা।
নিহতের ছেলে জুবায়ের বলেন, ‘এলাকায় একটি চক্র বেশ কিছুদিন ধরে মাদকের কারবার চালাচ্ছিল। তাদের কাজে বাধা দেওয়ায় আমার মামা খোরশেদের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল সেই মাদক ব্যবসায়ীরা। এ বিষয় নিয়ে আগেও এই দুর্বৃত্তদের সঙ্গে তার ঝামেলা হয়েছিল। তারাই আজকে খোরশেদকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন বাধা দেওয়ায় আমার বাবা খুন হন। আমাকে আহত করেছে তারা।’
তবে কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে আহতরা নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাননি।
শাজাহানপুর থানার ওসি আশিক ইকবাল বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে চলছে অভিযান। নিহতের মরদেহ রাখা হয়েছে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে।




