খুলনায় ৪০১ কোটির তিন হাসপাতাল
সময় যায় ব্যয় বাড়ে মেলে না সেবা

৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়তলা ভবন নির্মাণে ঠিকাদারকে সময় দেওয়া হয়েছিল মাত্র ২২ মাস। সেই সময়সীমা গড়িয়েছে আট বছরে। অথচ ভৌত অগ্রগতি মাত্র ৬০ শতাংশ। ফেলে রাখা বাকি ৪০ শতাংশ কাজ শেষ করতে সম্প্রতি নেওয়া হয়েছে নতুন প্রকল্প। এর আওতায় ছয়তলার সঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ হচ্ছে আরও দুইতলা। এতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ কোটিতে। অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে সময় বাড়িয়ে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এটি খুলনা জেনারেল হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণের চিত্র।
শুধু জেনারেল হাসপাতালের ভবন নয়, দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিয়েছে ২৪০ কোটি টাকা ব্যয়ের ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগ হাসপাতাল নির্মাণেও। ১৫ তলা ভবন নির্মাণে ঠিকাদারকে সময় দেওয়া হয়েছিল মাত্র ২০ মাস। সেই ২০ মাসের সময় বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে পাঁচ বছরে। অথচ এখনো শেষ হয়নি ভবন নির্মাণকাজ। এ ছাড়া ১১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দুই বছর আগে শেষ হয়েছে খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতালের অত্যাধুনিক পাঁচতলা ভবন নির্মাণকাজ।
৪৬ কোটির সদর হাসপাতাল ভবন
২০১৮ সালে হাসপাতালের নিজস্ব জমিতে ছয়তলা ভবন নির্মাণকাজ শুরু করে গণপূর্ত অধিদপ্তর। ২০২০ সালের ২৬ জুনের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। এরপর দুই দফা মেয়াদ বাড়ালেও ৬০ শতাংশ কাজ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লাপাত্তা হয়। কাজ শেষ করতে নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম গাজী আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘জেনারেল হাসপাতাল ১০০ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে। জনবল অনুমোদন হয়েছে। কিন্তু জায়গা সংকটের কারণে আগের ১০০ শয্যার কার্যক্রমই চলছে।’
২৪০ কোটির ক্যানসার কিডনি ও হৃদরোগ হাসপাতাল
এই হাসপাতাল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ২৪০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অভ্যন্তরে ১৫ তলাবিশিষ্ট ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় সবশেষ চতুর্থ দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। এ ব্যাপারে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সুজাত আহমেদ আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘হাসপাতালটি চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ বড় পরিসরে উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে, ভরসার জায়গা তৈরি হবে, ঢাকামুখী চাপ কমবে।’
১১৫ কোটির বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ময়ূরী আবাসিক এলাকার বিপরীতে ৪ দশমিক ৮ একর জমিতে নির্মিত হয়েছে পাঁচতলাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক হাসপাতাল ভবন। ১১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৪ সালের জুনে নির্মাণকাজ শেষ হয়। এখনো চালু হয়নি হাসপাতালটি। এর মধ্যে ভবনটির কোথাও কোথাও খসে পড়ছে পলেস্তারা, দেখা দিয়েছে বড় ফাটলও।
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার আগামীর সময়কে বলেছেন, হাসপাতালের ভবন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদাররা কাজ শেষ না করে দফায় দফায় সময় ও ব্যয় বাড়িয়ে দুর্নীতির ক্ষেত্র তৈরি করেছেন। তিনটি হাসপাতালের ভবন নির্মাণকারী সংস্থা খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১। সংস্থার নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান বলেছেন, জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণের একপর্যায়ে ওপিতে ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু তখন অন্তর্বর্তী সরকার ওপি বাতিল করায় কাজ বন্ধ ছিল। বর্তমানে নতুন অনুমোদিত প্রকল্পে কাজ চলছে, ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে সব কাজ শেষ হবে।
ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগ হাসপাতাল সম্পর্কে কামরুল হাসান বলেছেন, এখন ফান্ড না আসায় ঠিকাদারের বিল পরিশোধ হচ্ছে না। এ কারণে তাদের কাজে আগ্রহ কমে গেছে। ফলে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।



