টুং টাং শব্দে ব্যস্ত কামার শিল্পীরা

সংগৃহীত ছবি
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বরগুনার আমতলীর কামার শিল্পীরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের প্রয়োজনীয় দা, ছুরি, চাপাতি, বঁটি ও কাটারিসহ লোহার সরঞ্জাম তৈরির পাশাপাশি পুরনো সরঞ্জামে ধার দেওয়ার কাজেও ব্যস্ত তারা।
সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের কামারপাড়ায় চলছে আগুনে লোহা পুড়িয়ে হাতুড়ির আঘাতে সরঞ্জাম তৈরির কাজ। টুংটাং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে এসব এলাকা।
কামারশিল্পীরা জানিয়েছেন, ঈদুল আজহা এলেই এ শিল্পে নতুন করে প্রাণ ফিরে আসে। বছরের অন্য সময় কাজের চাপ কম থাকলেও কোরবানির মৌসুমে ক্রেতাদের ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। নতুন সরঞ্জাম তৈরির পাশাপাশি পুরনো দা, ছুরি ও চাপাতিতে ধার করানোর চাহিদাও বাড়ে।
আমতলী উপজেলার গাজীপুর বাজারের কামারশিল্পী মিলন কর্মকার বলেছেন, প্রায় ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি এ পেশায় যুক্ত। ঈদকে কেন্দ্র করে পাইকারি ও খুচরা ক্রেতাদের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। সামনে এ চাহিদা আরও বাড়বে বলে আশা করেন তিনি।
কারিগররা জানিয়েছেন, কাঁচা ও পাকা দুই ধরনের লোহা দিয়ে এসব সরঞ্জাম তৈরি করা হয়। তবে পাকা লোহার তৈরি দা ও ছুরির চাহিদা বেশি, কারণ এগুলো বেশি টেকসই। আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধি, কাঁচামাল ও কয়লার দাম বাড়া এবং আর্থিক সংকটের কারণে ঐতিহ্যবাহী এ শিল্প এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
লাভ কমে যাওয়ায় অনেকেই এ পেশা ছেড়ে অন্য কাজে ঝুঁকছেন। তবে ঈদকে ঘিরে সাময়িকভাবে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে কামারপাড়াগুলোতে। দোকানের সামনে সাজানো রয়েছে নতুন দা, ছুরি, বঁটি ও চাপাতি। ভেতরে জ্বলছে আগুনের চুল্লি, আর অবিরাম হাতুড়ির আঘাতে তৈরি হচ্ছে কোরবানির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।






