সন্ধান মেলেনি সুন্দরবনে নিখোঁজ পর্যটকের, চলছে তল্লাশি

ছবি: আগামীর সময়
দুই দিনেও সন্ধান মেলেনি সুন্দরবনের দুবলার চরের আলোরকোল সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ পর্যটক রিয়াজ আহমেদের (২৫)।
গতকাল শুক্রবার বিকালে প্রবল ঢেউ ও স্রোতের টানে সাগরে তলিয়ে যান তিনি। ঘটনার পর থেকে কোস্ট গার্ড, বন বিভাগ ও তার সফরসঙ্গীরা সাগরতীর এবং সুন্দরবনের বিভিন্ন চরে তল্লাশি চালালেও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এদিকে ব্যাগে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের সূত্র ধরে নিখোঁজ পর্যটকের পরিচয় শনাক্ত করেছে বন বিভাগ। নিখোঁজ রিয়াজ আহমেদ ময়মনসিংহের ভালুকা পৌরসভার কাঁঠালি পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম আবুল বাষার ঢালী এবং মায়ের নাম রুমেলা খাতুন।
শনিবার দুপুর ২টার দিকে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চর জেলে পল্লি বিশেষ টহল ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান জানান, নিখোঁজ পর্যটকের সন্ধানে সাগরতীর ও সুন্দরবনের বিভিন্ন চরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বন বিভাগ ও কোস্ট গার্ডের সদস্যদের পাশাপাশি তার সফরসঙ্গীরাও অভিযানে অংশ নিয়েছেন।
ফরেস্ট রেঞ্জার খলিলুর রহমান বলেন, বিশাল সমুদ্রে ডুবুরি নামিয়েও নিখোঁজ পর্যটকের সন্ধান করা অত্যন্ত কঠিন। মরদেহ ভেসে না ওঠা পর্যন্ত উদ্ধারের সম্ভাবনা কম। এ জন্য মরদেহের সন্ধান পেতে আরও এক-দুই দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। ইতিমধ্যে তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। স্বজনেরা ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে আলোরকোলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে ‘ইকোট্যুরিজম’ নামের একটি কাঠের তৈরি পর্যটকবাহী লঞ্চ ১০ জন পর্যটক নিয়ে সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট ও নীলকমল ঘুরে আলোরকোলে পৌঁছায়। পরে লঞ্চ থেকে একটি ট্রলারে করে পর্যটকেরা আলোরকোল চরে নামেন। তাদের মধ্যে তিনজন সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নামেন। এ সময় প্রবল ঢেউ ও স্রোতের টানে রিয়াজ সাগরে তলিয়ে যান। ঘটনাটি দেখতে পেয়ে আলোরকোল শুঁটকি পল্লির জেলেরা তাৎক্ষণিকভাবে কোস্ট গার্ড ও বন বিভাগকে খবর দেন। এরপরই শুরু হয় উদ্ধার অভিযান।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. আবুল কাশেম জানান, পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই কোস্ট গার্ডের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এরপর থেকেই নিখোঁজ পর্যটকের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. হাছানুর রহমান জানান, শুক্রবার সকালে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশন থেকে পাস (অনুমতিপত্র) নিয়ে দুটি পর্যটকবাহী লঞ্চ পূর্ব সুন্দরবনের দুবলার চরে যায়। ওই দুটি লঞ্চে মোট ৩০ জন পর্যটক ছিলেন। তাদের মধ্যে একটি লঞ্চের একজন পর্যটক সাগরে তলিয়ে যাওয়ার খবর তিনি পেয়েছেন।




