বাগেরহাটে বাড়ছে চুইঝালের চাষ

চুইঝাল
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রান্নাঘরের পরিচিত মসলা চুইঝাল এখন পরিণত হচ্ছে বাগেরহাটের সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসলে। আবাদও বাড়ছে। গত বছরের তুলনায় এবার ৭ হেক্টর বেশি জমিতে মসলাটির আবাদ হয়েছে। স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে পণ্যটির বাজার। কৃষকও চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। বছর জুড়ে চাহিদা ও তুলনামূলক ভালো দাম— দুই মিলিয়ে চুইঝাল ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা।
গরু, হাঁসসহ বিভিন্ন ধরনের মাংস রান্নায় চুইঝালের ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। বাগেরহাটের বিভিন্ন হাটবাজারে সারা বছরই চুইঝাল বিক্রি হয়। স্বাভাবিক সময়ে প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৪০০-৮০০ টাকা। তবে এখন আকার ও মানভেদে দাম উঠছে ৮০০-১০০০ টাকা পর্যন্ত। বিশেষ মৌসুমে চাহিদা বাড়লে দাম আরও বাড়ে। বেশি হলেও অবশ্য ভাটা পড়েনি ক্রেতার আগ্রহে।
মোরেলগঞ্জ শহরের কাঁচাবাজারে চুইঝাল বিক্রি করেন মহাসিন তালুকদার। তার ভাষ্য, সারা বছরই চুইঝালের বিক্রি ভালো থাকে। উৎসব ও বিশেষ মৌসুমে চাহিদা বেড়ে যায়। আগে চিকন চুইঝাল প্রতি কেজি ৪০০-৬০০ এবং মোটা চুইঝাল প্রায় ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করতেন। এখন পাইকারি দাম বেড়ে যাওয়ায় আকারভেদে ৮০০-১০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন।
আবাদ বাড়ার পেছনে কৃষকের লাভের হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ। সদর উপজেলার যাত্রাপুর এলাকার চাষি নজরুল ইসলাম জানালেন, একটি চুইগাছ পরিণত হতে ছয় মাস থেকে প্রায় এক বছর সময় লাগে। পরিণত হলে গাছের কাণ্ড কেটে চুইঝাল সংগ্রহ করা হয়। তাই চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেলেও দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়।
কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, গত বছরের তুলনায় এবার ৭ হেক্টর বেশি জমিতে চুইঝালের আবাদ হয়েছে। বর্তমানে জেলায় প্রায় ৩২ হেক্টর জমিতে এ ফসল চাষ হচ্ছে। এ বছর উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৪০ টন, যার বাজার দাম ২ কোটি টাকার বেশি।
চুইঝালের এই বিস্তারের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের খাদ্যসংস্কৃতিও। বাগেরহাট, খুলনা, যশোর, নড়াইল ও সাতক্ষীরায় মাংস রান্নায় চুইঝালের ব্যবহার পুরনো। চুই লতাজাতীয় উদ্ভিদ; এর কাণ্ডই মূলত রান্নায় ব্যবহার করা হয়। এ অঞ্চলের মানুষের খাবারের স্বাদ ও ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে থাকা এই মসলা এখন নতুন বাজারও খুঁজে নিচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেনের মতে, ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক— দুভাবেই এ চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে।



