বাউফলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধিকাংশই খালি, কয়েকটি ‘গোয়ালঘর’

প্রকল্পের কয়েকটি ঘরকে গোয়ালঘর ও খড়কুটো রাখার স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ছবি: আগামীর সময়
পটুয়াখালীর বাউফলের কাছিপাড়া ইউনিয়নের ছত্রকান্দা এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধিকাংশ ঘরই দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রকল্পের কয়েকটি ঘরকে গোয়ালঘর ও খড়কুটো রাখার স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারি অর্থে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রকল্পের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধিকাংশ ঘরের দরজা-জানালা তালাবদ্ধ। কয়েকটি ঘরের জানালা খড়কুটো দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় কিছু ঘরের দরজা-জানালা ও অন্যান্য অবকাঠামোও নষ্ট হতে শুরু করেছে।
স্থানীয়রা জানান, ছত্রকান্দা এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে মোট ২২টি ঘর রয়েছে। এর মধ্যে ২১টি ঘরেই বর্তমানে কেউ বসবাস করেন না বলে জানিয়েছেন তারা।
একটি ঘরে একজন উপকারভোগীর থাকার কথা থাকলেও সরেজমিনে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা নাসির উদ্দিনের অভিযোগ, আব্বাস প্যাদা, মকবুল প্যাদা, আব্দুর রব প্যাদা, ফোরকান প্যাদা, ফাতেমা প্যাদাসহ কয়েকজন আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো দখলে রেখেছেন। তাদের কারণে সেখানে সাধারণ মানুষ যেতে পারেন না। ভয়ভীতি দেখিয়ে তারা ঘরগুলো দখল করেছেন। গরু-ছাগল রাখায় ঘরগুলো নোংরা অবস্থায় রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগ অস্বীকার করে আব্বাস প্যাদা ও মকবুল প্যাদা জানিয়েছেন, যাদের নামে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তারা কেউ সেখানে বসবাস করেন না। সরকারি তালা ভেঙে সেখানে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ চলত। এ কারণে তারা নিজেদের উদ্যোগে চারটি ঘরে তালা দিয়েছেন ও এবং সেখানে খড়কুটো রেখেছেন। তবে গরু রাখা হয়নি। বরাদ্দ পাওযা ব্যক্তিরা এলে ঘর পরিষ্কার করে দেওয়ার কথাও জানান তারা।
বাউফল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহাগ মিলু বলেছেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দের বিষয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি আবেদন করেন। বরাদ্দ পাওয়া ঘর কোনোভাবেই বেচাকেনা করা যাবে না। যেসব ঘর খালি রয়েছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজন হলে বরাদ্দ বাতিল করে নতুন করে উপকারভোগীদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হবে।’






