বরিশালে পুলিশ হেফাজতে নারীর মৃত্যু, নির্যাতনের অভিযোগ স্বজনদের

আটকের পর পুলিশ হেফাজতে নাদিয়া বেগম। ছবি: সংগৃহীত
বরিশালের বাকেরগঞ্জে পুলিশ হেফাজতে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের দাবি, আটকের সময় ইয়াবা গিলে ফেলেছিলেন নাদিয়া বেগম (৩৮) নামের ওই গৃহবধূ। স্বজনদের অভিযোগ, থানায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ফলে মৃত্যু হয়েছে তার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের কৃষ্ণকাঠী গ্রাম থেকে নাদিয়া বেগমকে আটক করা হয়। পরে বুধবার সকালে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি আদিল হোসেনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আটক নাদিয়ার কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন ও মাদক বিক্রির নগদ ১৯ হাজার ৫৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার বিকালে বরিশাল আদালতে পাঠানোর সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন নাদিয়া। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে পুলিশ হেফাজতেই তার মৃত্যু হয়। মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
নাদিয়া বেগমের স্বামী এনামুল হক মন্টু গাজীর অভিযোগ, আটকের পর নাদিয়াকে থানায় নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এ কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পরিবারের দাবি, আটকের সময় নাদিয়ার কাছে কোনো মাদক ছিল না।
এদিকে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হেসেনের ভাষ্য, আটকের সময় নাদিয়া তার কাছে থাকা ইয়াবা গিলে ফেলেছিলেন। পরে আদালতে নেওয়ার পথে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় তার।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, নাদিয়ার স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও ডাকাতির মামলা রয়েছে। পাশাপাশি নাদিয়ার ছেলের বিরুদ্ধেও দুটি মাদক মামলা রয়েছে।
ইয়াবা গিলে ফেলা পরপরই তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি কেন এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেছেন, তাৎক্ষণিকভাবে অসুস্থতার কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। তাই হাসপাতালেও নেওয়া হয়নি। তবে অসুস্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাকেরগঞ্জ সার্কেল) মাসুম বিল্লাহ জানান, বাকেরগঞ্জে ধারাবাহিকভাবে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। এরই অংশ হিসেবে নাদিয়া বেগমকে আটক করা হয়েছিল। আটকের পর জেলহাজতে পাঠানোর আগে তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যান।
তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে নাদিয়ার সঙ্গে থাকা মাদক (ইয়াবা) গিলে ফেলার কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ তদন্ত ও চিকিৎসকের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাসুম বিল্লাহ বলেছেন, মাদকসহ কেউ আটক হলে এ নিয়ে অনেক ধরনের কথা ছড়ায়। তবে নাদিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং পুলিশ হেফাজতে তার ওপর কোনো ধরনের নির্যাতন হয়েছিল কি না, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।





