দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন, ৯ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি আসামি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
খুলনার দাকোপে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলার ৯ দিন পার হলেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে দাকোপ থানায় মামলা করেন। আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিশুটির স্বজনেরা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ৩টার দিকে জয়নগর গ্রামের ৮ বছরের ওই ছাত্রী প্রতিদিনের মতো প্রতিবেশী মো. আফজাল সানার (৩৩) বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে যায়। এ সময় আফজালের স্ত্রী অন্য কক্ষে ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে আফজাল শিশুটিকে একটি নির্জন কক্ষে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে যৌন নির্যাতন করেন। শিশুটির চিৎকারের একপর্যায়ে আফজালের স্ত্রীর ঘুম ভেঙে যায়। পরে শিশুটিকে বিষয়টি কাউকে না জানানোর হুমকি দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে এজাহারে।
বাড়িতে ফিরে শিশুটি স্বজনদের কাছে বিষয়টি জানালে প্রথমে তাকে স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এরপর ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর দাকোপ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় মো. আফজাল সানাকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।
শিশুটির বাবার অভিযোগ, ‘আমার নিষ্পাপ শিশুর ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে। ঘটনার ৯ দিন পার হয়ে গেলেও আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আমরা দ্রুত আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দাকোপ থানার উপপরিদর্শক মো. কাজল বিশ্বাস জানান, ঘটনার পরপরই আসামি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দাকোপ থানার ওসি প্রবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। প্রযুক্তির সহায়তায় সম্ভাব্য স্থানগুলোতে অভিযান চালানো হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’




