কুমারখালীতে ব্যবসায়ীর ওপর হামলার অভিযোগ, বাড়িতে গুলি

আহত আরিফুল ইসলাম—সংগৃহীত
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর লালনবাজার এলাকায় আরিফুল ইসলাম (৪৩) নামে এক ব্যবসায়ীর ওপর সশস্ত্র হামলা ও তার বাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত আরিফুল ইসলামকে কুমারখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাতিজা মো. মাহাবুবুল হাসান (রনি) শনিবার দুপুর একটার দিকে কুমারখালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে পরিবারের দাবি। তবে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ব্যবসার কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন আরিফুল। তিনি লালনবাজারের কাছে পৌঁছালে কুমারখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সুজন হোসেনের নেতৃত্বে রিশান হোসেনসহ ১০ থেকে ১২ জন তার পথ আটকান। তাদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, হাসুয়া, লোহার রড ও হাতুড়ি ছিল বলে অভিযোগ। হামলাকারীরা আরিফুলকে এলোপাতাড়ি মারধর করলে তার পিঠ, পাঁজর ও মাথায় গুরুতর আঘাত পান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করতে এলে হামলাকারীরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
স্থানীয়দের দাবি, হামলার পর সন্ত্রাসীরা আরিফুল ইসলামের গ্রামের বাড়িতেও গিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি করে। পরে একই রাতে যদুবয়রা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রিপন আলীর চৌরঙ্গী বাজারের বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। সেখানে ২০ থেকে ২৫ রাউন্ড গুলির পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা ও বাসভবনের কাচের জানালা ভাঙচুর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা রিপন আলীর ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী আরিফুল ইসলামের ভাষ্য, ‘বালুঘাট দখল ও সন্ত্রাসী তৎপরতার প্রতিবাদ এবং ব্যবসায়িক পাওনা টাকা নিয়ে কথা বলার কারণেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, হামলার সময় তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।’
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ‘স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী বিএনপির একটি গ্রুপের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা সুজন ও রিশান বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। হামলায় সুজন, রিপন, মানিয়ার ও রিশান গ্রুপের সদস্যরা জড়িত বলে স্থানীয়দের দাবি।’
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে মুখোশধারী কয়েকজন অস্ত্রধারীকে মোটরসাইকেলে মহড়া দিতে দেখা গেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। ভিডিওতে একজনকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে একটি বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতেও দেখা যায়। ঘটনাটি এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
মো. মাহাবুবুল হাসান (রনি) বললেন, ‘ঘটনার পর আহত চাচাকে উদ্ধার করে কুমারখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আমার চাচাকে মারধর এবং বাড়িতে গুলি করার ঘটনায় কুমারখালী থানার ওসির কাছে দুপুর ১টার দিকে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়ে এসেছি।’
এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন মন্তব্য করেন, ‘গুলির ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি।’ তবে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বললেন, ‘এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’





