ভেঙে দেন চলাচলের একমাত্র সেতু, মামলা করায় গ্রামছাড়া করার হুমকি মেম্বারের

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. সোলাইমান
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে চলাচলের একমাত্র কাঠের সেতু ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা করছেন স্থানীয় এ ব্যক্তি।
পরে অভিযুক্ত ক্ষুব্ধ হয়ে বাদী ও তার ভাইদের ছবি দিয়ে ব্যানার বানিয়ে ‘চোরের ভাই’ আখ্যা দিয়ে সমাবেশ করে গ্রামছাড়া করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
আজ রবিবার সকালে কমলনগর প্রেস ক্লাবে এসে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে বলে তাদের দাবি। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযুক্ত মো. সোলাইমান ওই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য।
মামলা ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তুলাতলী খালের ওপর প্রায় ৩০ বছর আগে একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়। সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন শতাধিক মানুষ চলাচল করেন। গত রবিবার ইউপি সদস্য মো. সোলাইমান, বেলাল হোসেনসহ ৭ থেকে ৮ জন সেতুটি ভেঙে ফেলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা দাবি করেছিলেন, সেতুটি তাদের জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছিল।
এ সময় মিজান ও তার ভাই রোমান সেতু ভাঙতে বাধা দেন এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। তাদের অভিযোগ, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বেলাল হোসেন ও ইউপি সদস্য সোলাইমান তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং মারধর করেন। পরে তাদের বাড়িতেও হামলা চালানো হয়।
ঘটনার দুদিন পর মিজান ইউপি সদস্য সোলাইমান, বেলাল হোসেনসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে মিজানসহ তার চার ভাইয়ের ছবি ব্যবহার করে ব্যানার তৈরি করা হয়। ব্যানারে তাদের ‘চোরের ভাই’ আখ্যা দিয়ে গ্রামছাড়া করার হুমকিও দেওয়া হয়।
মিজান অভিযোগ করে বলেছেন, কয়েকদিন আগে তাদের জমি ব্যবহার করে একটি রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্য সোলাইমানের সঙ্গে তাদের পরিবারের কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে প্রায় ৫০-৬০ পরিবারের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথের ওপর থাকা কাঠের সেতুটি ভেঙে ফেলা হয়।
মিজান জানালেন, সেতু ভাঙার সময় তারা বাধা দেন এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের তিন ভাইকে মারধর করা হয় এবং তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। পরে আদালতে মামলা করলে ইউপি সদস্য ও তার সহযোগীরা তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালান এবং গ্রামছাড়া করার হুমকি দেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা আরমান হোসেন জানিয়েছেন, গ্রামের প্রায় ৫০-৬০ পরিবারের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ব্যবহার করে আসছেন। শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষসহ স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়মিত সেতুটি দিয়ে চলাচল করতেন। সেতুটি ভেঙে দেওয়ায় তাদের দৈনন্দিন চলাচল ও কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ায় ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য মো. সোলাইমান জানালেন, এলাকায় প্রতিদিন চুরি-ডাকাতি হচ্ছে। যাদের ছবি ব্যবহার করে ব্যানার তৈরি করে প্রতিবাদ করা হয়েছে, তারা সমাজের কাউকে মানেন না। তাই তারা বাধ্য হয়ে এভাবে প্রতিবাদ করেছেন।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফরিদুল আলম জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ইউপি সদস্যকে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে সমাধান না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





