টাকা ছাড়া ‘কিছুই বোঝেন না’ শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী

ছবি: আগামীর সময়
সাতক্ষীরার শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে হাসপাতালের একাধিক উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, অফিসের বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। ছুটি অনুমোদন, শ্রান্তি বিনোদন ভাতা, এসিআর, মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, জাহিদ হাসান দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের নারী স্টাফদের আর্থিক ও মানসিকভাবে হয়রানি করে আসছেন। তার আচরণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি আউটসোর্সিংয়ের ১৩ কর্মচারীর বেতন বিল সম্পন্ন করতে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এছাড়া অবসরে যাওয়া কর্মচারীদের পেনশন বিল ছাড় করতেও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী অভিযোগ করেন, সাধারণ ছুটি নেওয়ার ক্ষেত্রেও টাকা ছাড়া কাজ হয় না। শ্রান্তি বিনোদন ভাতার একটি অংশও তাকে দিতে হয়। এমনকি হাসপাতালের বাবুর্চিখানার ঠিকাদারের কাছ থেকেও নিয়মিত অর্থ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ফলে রোগীদের নিম্নমানের খাবার সরবরাহ হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
অভিযোগে আরও বলা হয়, লেবার ওয়ার্ডে দায়িত্ব পেতে মাসিক চাঁদা দিতে হয়। রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য করা এবং নবজাতক কোলে দেওয়ার সময় পাওয়া বকশিশের অর্থের অংশ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মাতৃত্বকালীন ছুটি নিতে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। বিভিন্ন বিল ও ভাতার বিপরীতেও অর্থ নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে প্রধান সহকারী জাহিদ হাসান জানান, তিনি বর্তমানে দুই দিনের ছুটিতে রয়েছেন। পরে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কথা বলবেন বলে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান মন্তব্য করেন, লিখিত অভিযোগটি এখনও তার হাতে পৌঁছায়নি। তবে বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। অভিযোগগুলো যাচাই করে কিছু সত্য এবং কিছু অসত্য পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ ঘটনায় জাহিদ হাসানকে সতর্ক করা হয়েছে বলেও জানান।
ডা. জিয়াউর রহমান বলছেন, ভবিষ্যতে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দাবি করেন, অবৈধভাবে আদায় করা অর্থের একটি অংশ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। এ কারণে অভিযোগ উঠলেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।




