হাসপাতালে ইয়াবার আসর, আতঙ্কে রোগী-স্বজন

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি: সংগৃহীত
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নবনির্মিত ভবনের চতুর্থ তলায় পাওয়া গেছে ইয়াবা সেবনের একাধিক আলামত। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সেখানে নিয়মিত মাদকসেবন করে। এতে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং আতঙ্কে রয়েছেন রোগী ও স্বজনেরা।
সম্প্রতি সরেজমিনে হাসপাতালের নতুন ভবনের চতুর্থ তলায় গিয়ে বিভিন্ন কোণ ও আড়ালে ইয়াবা সেবনে ব্যবহৃত ফয়েল পেপার, পোড়া দিয়াশলাইয়ের কাঠি ও অন্যান্য উপকরণ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে ওই সময় সেখানে কোনো মাদকসেবীকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হাসপাতালের নির্জন পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সেখানে নিয়মিত মাদকসেবন করে। দিনের বেলায় রোগী ও স্বজনদের আনাগোনা থাকলেও রাত নামলে হাসপাতালের কিছু অংশ কার্যত নজরদারির বাইরে চলে যায়। এ সুযোগে মাদকসেবীরা সেখানে প্রবেশ করে বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এ ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে হাসপাতালের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি রোগী, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। নিরাপত্তাবেষ্টনী থাকার পরও কীভাবে মাদকসেবীরা নিয়মিত হাসপাতালে প্রবেশ করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
সচেতন মহলের মতে, হাসপাতালের ভেতরে মাদকসেবীদের অবাধ বিচরণ বন্ধ করা না গেলে এটি অপরাধপ্রবণ গোষ্ঠীর আশ্রয়স্থলে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অপরাধের আশঙ্কাও রয়েছে।
এ বিষয়ে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হানিফ জানান, হাসপাতালের ভেতরে মাদকসেবনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও তাদের মদদদাতাদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে হাসপাতালের তীব্র জনবল সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। ডা. মোহাম্মদ হানিফ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এত বড় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মাত্র একজন ক্লিনার ও একজন নাইটগার্ড দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। পরিচ্ছন্নতা ও প্রশাসনিক কাজ সচল রাখতে ব্যক্তিগত অর্থায়নে আরও দুজন ক্লিনার নিয়োগ দিতে হয়েছে। কিন্তু এত বড় ভবনে সীমিত জনবল দিয়ে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন।’
এদিকে হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার, পর্যাপ্ত সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো এবং মাদকসেবনের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে হাসপাতালের স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশ ফিরে আসবে বলে প্রত্যাশা তাদের।






