গজারিয়ায় ভুট্টার বাম্পার ফলন, দামও ভালো

ছবি: আগামীর সময়
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন হয়েছে ভুট্টার। একই সঙ্গে বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় খুশি কৃষকরা। গত বছরের চেয়ে এ বছর বেড়েছে ভুট্টার দামও। ফলে উৎপাদিত ভুট্টা বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর প্রতি মণ ভুট্টা ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এ বছর বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। কম খরচ ও কম পরিশ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় দিন দিন ভুট্টা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গজারিয়ায় ১ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে ভুট্টার, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে গুয়াগাছিয়া, বাউশিয়া, ইমামপুর ও টেংগারচর ইউনিয়নে আগের চেয়ে বেশি চাষ হয়েছে ভুট্টার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভুট্টা মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাড়ির উঠানে ভুট্টা শুকাচ্ছেন অনেকেই। শুকানোর সময়ই কৃষকদের বাড়িতে গিয়ে ভুট্টা কেনার জন্য দরদাম করছেন ফড়িয়ারা।
কৃষকদের ভাষ্য, ভুট্টা চাষে লাভের আরেকটি কারণ হলো এর প্রায় সব অংশই কাজে লাগে। ভুট্টার সবুজ পাতা গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়, আর শুকনো গাছ ও মোচা জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগে। এ কারণে আগে যেসব জমিতে বোরো ধান চাষ হতো, সেসব জমির বড় অংশ এখন আওতায় আসছে ভুট্টা চাষের।
মধ্যভাটেরচর গ্রামের ভুট্টাচাষি আশরাফ হোসেন দেওয়ান জানিয়েছেন, চলতি বছর তিনি ছয় বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। তার জমি থেকে প্রায় ১৮০ মণ ভুট্টা উৎপাদিত হয়েছে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতি মণ ভুট্টা ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে ভুট্টা রোদে শুকাতে দেখা যায়।
অন্যদিকে টেংগারচর এলাকায় কৃষাণী মাজেদা বেগমকে পরিপক্ব ভুট্টা জমি থেকে তুলে বস্তাবন্দি করে গ্রামীণ সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখতে দেখা গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ফয়সাল আরাফাত বিন সিদ্দিক বলেছেন, অনুকূল আবহাওয়া এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির কারণে এ বছর ভুট্টার ভালো ফলন হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে আশানুরূপ দাম পাওয়ায় কৃষকরা সন্তুষ্ট।
তার মতে, ভুট্টা চাষের লাভজনকতা ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে এই ফসলের আবাদ আরও বাড়াতে উৎসাহ জোগাবে।




