‘সে বাইরে বের হলে বাড়ির ইটও থাকবে না’— ছাত্রদল নেতার হুমকি

ধামরাই উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাফিজুল ইসলাম রবিন। ছবি: সংগৃহীত
‘আরামে থাকতে চাইলে ইয়ার (এর) বাইরে যাইতে না কইরেন, নাইলে বাড়ির ইট সুদ্দা (ইটসহ) থাকবো না’। ঢাকার ধামরাইয়ে সাদ্দাম হোসেন নামে এক ব্যবসায়ীর বাড়ি গিয়ে এভাবেই শাসাচ্ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাফিজুল ইসলাম রবিন। নিজ ফেসবুক আইডিতে সেই ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি।
ভিডিওতে রবিনকে বলতে শোনা যায়, সাদ্দাম হোসেন ছাত্রলীগের গোপন মিছিলে অর্থায়ন করেছেন। মিছিলে অংশও নিয়েছেন। তবে সাদ্দামের দাবি, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। পারিবারিক বিরোধের জেরে তাকে ‘ছাত্রলীগ’ ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে।
ভিডিওটি গত ১৪ আগস্ট পোস্ট করেন উপজেলা ছাত্রদল নেতা রবিন। ধামরাইয়ের ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সাদ্দামের বাড়ির সামনে সেটি রেকর্ড করা হয়। তাতে দেখা যায়, এক নারীর সঙ্গে তর্ক হচ্ছে রবিনের।
তিনি ওই নারীকে বলছিলেন, ‘আরামে থাকতে চাইলে ইয়ার (এর) বাইরে যাইতে না কইরেন। নাইলে বাড়ির ইট সুদ্দা (ইটসহ) থাকবো না। পুরুষ মানুষ আছে? থাকলে বইলেন। ডাউটিয়া যাইয়া মিছিল করার সাহস পাইলো কেমনে?’
পাশের আরেক ব্যক্তির উদ্দেশে রবিন বলেন, ‘ধামরাই শান্তিপ্রিয়, সবাই আরামে আছে, ভালো আছে। কোনো নাশকতা আছে? আপনের ভাইস্তা, দুই-তিন দিন আগে ডাউটিয়া যাইয়া মিছিল করে আসছে। দেশ অস্থিতিশীল করার পায়তারা করছে। একবার জেলে খাইটা আসছে না?’
তখন আরেক নারী ঘর থেকে বের হয়ে জবাব দেন, ‘কীসের ছাত্রদল, সন্ত্রাসী তোরা। কোপাইতে আসছোস বাড়িতে?’ ৫ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে সাদ্দামকে নিয়ে এভাবেই তর্ক চলে।
রবিন ও তার সহযোগীরা আগেও কয়েকবার হুমকি দিয়েছেন- বললেন সাদ্দাম। তবে এর সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো ইস্যু নেই বলে দাবি তার।
সাদ্দাম জানালেন, তার মামার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল রবিনের সহযোগী মো. জাকারিয়ার খালার। বিয়েবিচ্ছেদের পর পারিবারিক জমির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে ওই মামা-মামির পরিবারের মধ্যে বিরোধ হয়। এর জেরে রবিনের সঙ্গে সাদ্দামের আগেও তর্কাতর্কি হয়।
রবিন ও সহযোগীদের দেওয়া মিথ্যা অভিযোগে গত বছরের ডিসেম্বরে এক রাজনৈতিক মামলায় তিনমাস জেলে ছিলেন বলে জানান সাদ্দাম। এখন পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি।
‘আমার পোলাটা বাইরে গেলে ডরে থাকি কোন সময় কী করে’- বলছিলেন সাদ্দামের মা জাহানারা বেগম। তার স্ত্রী মোসাম্মদ তাইয়েবা আক্তার জানালেন, ভিডিওতে রবিন প্রথম সাদ্দামের মা ও চাচাকে শাসাচ্ছিলেন। হইচই শুনে বের হলে তাকেও হুমকি দেওয়া হয়।
‘সাদ্দামরে কইয়েন যে, এই বাড়ি থেকে বাইর হইলে ওর পা কাইটা দিমু, ওরে মাইরা ফেলামু’- এসব বলে হুমকি দেন রবিন, দাবি তাইয়েবার।
অভিযোগের বিষয়ে রবিনের ভাষ্য, কয়েক দিন আগে ডাউটিয়া এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একটি মিছিল করা হয়। তাতে অর্থায়ন করেন কাপড় ব্যবসায়ী সাদ্দাম। দীর্ঘদিন তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত বলেও দাবি রবিনের।
‘সাদ্দাম এজাহারভুক্ত আসামি। আমি ওসি স্যারের সঙ্গে কথা বলে দেখছি, তাকে দুই-তিনবার এরেস্টের পরিকল্পনা হয়েছিল। পরবর্তীতে উনি ধরা পড়ছে, তিন মাস জেলেও ছিল। সেদিন আমি ওর বাসায় গিয়ে ওর গার্ডিয়ানকে... একটু সাবধান করে দিয়ে আসছি। যাতে আর উচ্ছৃঙ্খল না হয়।’
ভিডিওটি নজরে এসেছে বলে জানালেন ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবাল। ‘বিষয়টি আমরাও দেখেছি। এই বিষয়ে সংগঠনে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে’- বললেন তিনি।
ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশান বলেছেন, ‘কেউই আইন হাতে তুলে নিতে পারেন না। কেউ আক্রান্ত বোধ করলে আইনের সহায়তা নিতে পারেন। অভিযোগ করলে পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’








