ধর্ষণের পর শিশু হত্যায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

সংগৃহীত ছবি
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় ধর্ষণের পর শিশু নিশামণিকে হত্যা মামলায় তিন আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। আরেক আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে সাড়ে ১২ বছর। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন ময়মনসিংহের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকার।
রায় ঘোষণার সময় আদালত চত্বরে বিপুলসংখ্যক আইনজীবী, সাংবাদিক ও উৎসুক জনতার ভিড় ছিল। মামলার ২৪ দিন ও ১০ কার্যদিবসে দেওয়া হয়েছে এ রায়।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন আরিফ (১৯), রাকিব (২১) ও সায়েম (১৮)। তাদের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে। তাদের সবার বাড়ি ধোবাউড়ার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামে। অন্য একটি আদেশে আসামি মারুফের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় তাকে সাড়ে ১২ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে নিয়োগ দেওয়া হয় একজন আইনজীবী। নিশামণির বাবা তাজু মিয়া রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জুন বিকালে কৃষক তাজু মিয়ার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে নিশামণি নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বাড়ির আশপাশে খোঁজ করে তার সন্ধান পাননি। স্থানীয় লোকজন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কংস নদীতে নেমে উদ্ধার করে তার মরদেহ।
দাফনের জন্য গোসল করানোর সময় শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান স্বজনরা। এতে তাদের সন্দেহ হয়, শিশুটিকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। পরে বিষয়টি জানানো হয় পুলিশকে। ১৫ জুন নিহতের বাবা ধোবাউড়া থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করে চারজনকে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর বজলুল করিম চৌধুরীও রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার ভাষায়, অপরাধীদের শাস্তি হয়েছে দৃষ্টান্তমূলক।




