ভুয়া কবিরাজের প্রতারণা, জামালপুরে স্বর্ণালঙ্কারসহ গ্রেপ্তার ১

জামালপুরে মা-বাবার ভালোবাসা পেতে শিশু প্রতারক কবিরাজের শরণে, স্বর্ণালঙ্কারসহ গ্রেপ্তার ১
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিশোরীর সাথে হয় পরিচয়। তারপর ভুক্তভোগীকে ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নেয় নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার। এমন প্রতারণার অভিযোগে ভুয়া কবিরাজ চক্রের মূলহোতা মনির হোসেনকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে জামালপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
এ ঘটনায় উদ্ধার করা হয়েছে প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুর পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানাচ্ছিলেন পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত। গ্রেপ্তার মনির হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের চর যথার্থপুর চান্দাপাড়া এলাকার মৃত মজিবর রহমানের ছেলে। তিনি পরিচিত ছিলেন ’মেড ইন জামালপুর’ নামের একটি পেজের কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শেরপুর সদর উপজেলার মাধবপুর এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী সাইদুর রহমানের বড় মেয়ে মোছা. লুবাবা (১৩) বিশ্বাস করত যে তার বাবা-মা ছোট দুই সন্তানকে বেশি ভালোবাসেন। এই মানসিক দ্বিধা থেকেই সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমাধান খুঁজতে থাকে।
এ সময় টিকটকে তার পরিচয় হয় নিজেকে তান্ত্রিক পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি ’খোরশেদ কবিরাজ’এর সঙ্গে । পরে ’কবিরাজ’ পরিচয়ে একটি চক্র ইমু অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ করে তাকে আশ্বাস দেয় বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের।
জানা যায়,গত ৬ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন অজুহাতে কবিরাজ ফি, খাসি, জায়নামাজ, আগরবাতি, মোমবাতি, গরুর দুধ, ফল এবং পরবর্তীতে জোড়া শুকর ও চন্দন কাঠ কেনার কথা বলে বিকাশের মাধ্যমে মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি।
পরে আরও অর্থ দাবি করলে লুবাবা স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা পাঠায়। এতে প্রায় সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ১ লাখ টাকা নেওয়া হয় প্রতারণার মাধ্যমে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে গত ১৭ মার্চ শেরপুর থানায় করা হয় মামলা। পরে পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে শুরু হয় তদন্ত। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে গত ৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে চক্রের দুই সদস্য মো. মুছা মিয়া (২৯) ও মো. রফিকুল ইসলামকে (২৮) করা হয় গ্রেপ্তার।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূলহোতা মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয় ময়মনসিংহের কোতোয়ালি উপজেলার মাসকান্দা এলাকা থেকে।
আটক মনিরের তথ্য অনুযায়ী বাড়ির পাশের একটি বাগান থেকে উদ্ধার করা হয় মাটির নিচে পুঁতে রাখা ২৫ ভরি ৯ আনা ৪ রতি স্বর্ণালঙ্কার। এ সময় জব্দ করা হয় আইফোনসহ পাঁচটি মোবাইল ফোন।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬৪ লাখ টাকা।
পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলছিলেন, ’তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে চক্রের মূলহোতাকে। উদ্ধার করা স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন জব্দের পাশাপাশি গ্রেপ্তার মনিরকেও পাঠানো হয়েছে আদালতে।

