নজরুল বর্ষ উদযাপনে নতুন প্রজন্মকে নজরুল পড়ানোর আহ্বান

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে উদযাপন করা হয়েছে নজরুল বর্ষ। ছবি: সংগৃহীত
‘আমি চিরতরে দূরে চলে যাব, তবু আমারে দেবনা ভুলিতে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে উদযাপন করা হয়েছে নজরুল বর্ষ। শুক্রবার বিকেলে কুমারখালী মিলনায়তন ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কার্যালয়ে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি ও সাহিত্য আড্ডার আয়োজন করা হয়।
কুমারখালী মিলনায়তন ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন কবি, সাহিত্যিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। এতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, দর্শন ও সাহিত্যকর্মের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্থার সভাপতি মো. আব্বাস উদ্দিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক কাজী সাইফুল।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একাধারে বিদ্রোহ, প্রেম ও মানবতার কবি। সাহিত্যের স্বর্ণযুগের অন্যতম গুণী ও মেধাবী কবি হলেও বাংলাদেশে তিনি অবহেলিত। নতুন প্রজন্মের মধ্যে নজরুলের জীবন, দর্শন ও সাহিত্যকর্ম ছড়িয়ে দিতে আরও বেশি চর্চা ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
কবি ও নাট্যকার লিটন আব্বাস বলেন, ‘নজরুল শুধু কবিতা লেখেননি, তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন। অথচ তাকে নিয়ে আমাদের চর্চা খুবই কম।’
সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা ও কবি আব্দুর রহমান বলেন, ‘পাঠ্যপুস্তকে নজরুল আছেন, কিন্তু তার দর্শন নিয়ে কাজ হচ্ছে না। নতুন প্রজন্মকে নজরুল পড়াতে হবে। নজরুল অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাকে জানতে হবে।’
বীর মুক্তিযোদ্ধা মুন্সী মাহমুদ হোসেন মানু বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে নজরুলের গান আমাদের প্রেরণা জুগিয়েছে। তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।’
কুমারখালী মিলনায়তন ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘অনেক দেরিতে হলেও সরকার নজরুল বর্ষের উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য সাধুবাদ জানাই।’
কুমারখালী তাঁতবোর্ডের উপমহাব্যবস্থাপক মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘নজরুলের সাহিত্য শ্রমজীবী মানুষের কথা বলে। তাকে জনপ্রিয় করতে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ ও গবেষণাগার স্থাপন হওয়া দরকার।’ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে এবং নতুন প্রজন্মকে উজ্জীবিত করতে সারাদেশে নজরুলবিষয়ক গবেষণাগার স্থাপনের দাবিও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কুমারখালী পাথরবাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় কবি, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা।






