নান্দাইলে ১৪৪ ধারার নিষেধাজ্ঞার পরও জমিতে ভবন নির্মাণের চেষ্টা

ছবি: আগামীর সময়
ময়মনসিংহের নান্দাইলে আদালতের ১৪৪ ধারার নিষেধাজ্ঞা জারির পরও বিরোধের জমিতে ভবন নির্মাণ ও দখলের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার সকালে নির্মাণকাজ শুরু হলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।
অভিযোগকারী ৬২ বছরের মো. আরিফ উদ্দিন সিকদার নান্দাইল উপজেলার চরবেতাগৈর ইউনিয়নের চর কমরভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। তার অভিযোগ, চর কমরভাঙ্গা মৌজার বিএস খতিয়ান নম্বর ৪০৭-এর ৩১১২ দাগে থাকা ২৯ শতাংশ জমি নিয়ে ৫৫ বছরের শহিদ সিকদার, ৪৮ বছরের সাইদুল ইসলাম সিকদার, ২০ বছর বয়সী নার্গিস আক্তার ও পিয়াস সিকদারের সঙ্গে তার বিরোধ চলছে।
আরিফ উদ্দিন জানিয়েছেন, গত ২৫ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে প্রতিপক্ষের লোকজন ওই জমিতে ভবন নির্মাণের উদ্দেশে দখলের চেষ্টা করেন। তিনি বাধা দিলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো ও হুমকি দেওয়া হয়। পরে তিনি একই দিন নান্দাইল মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে বিষয়টি আপসের মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দেয়। তবে পরদিন আবারও সেখানে নির্মাণকাজ শুরু করা হয় বলে তার অভিযোগ।
পরে বিরোধের জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গত ৩০ আগস্ট অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন আরিফ উদ্দিন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলাটির নম্বর ১১৮৮/২৬। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারায় করা ওই মামলায় স্মারক নম্বর ৩৬০০। আদালত ওই দিনই বিরোধের জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৪৪ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
আরিফ উদ্দিন বলেছেন, ‘২৯ শতাংশ জমির মধ্যে তার ৭ শতাংশ জায়গা স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এরপরও একাধিকবার দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। শনিবার ১৪৪ ধারার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নির্মাণকাজ শুরু করার চেষ্টা হলে পুলিশ এসে তা বন্ধ করে দেয়।’
তিনি অভিযোগ করেন, নিষেধাজ্ঞা জারির পরও তিনবার জমি দখল ও নির্মাণকাজের চেষ্টা করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এনে তাদের জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণের চেষ্টা চলছে। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
নির্মাণকাজের ঠিকাদার মো. মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন, ওই জমিতে ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে, তা তার জানা ছিল না। শহিদ সিকদার ও সাইদুল সিকদারের অনুরোধে তিনি সেখানে কাজ করতে এসেছিলেন। পুলিশ বাধা দেওয়ায় তিনি নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে শহিদ সিকদার ও তার ভাই সাইদুল ইসলাম সিকদারের বক্তব্য জানতে তাদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তারা বাড়িতে নেই।
নান্দাইল মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পিন্টু চন্দ্র দে জানিয়েছেন, আদালতের ১৪৪ ধারার নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করার সুযোগ নেই। নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন জায়গায় কাজ হচ্ছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে।






