কক্সবাজারে মোটরসাইকেল নিয়ে বিরোধে যুবক হত্যা, এক আসামি গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার সাদমান সিহাব। সংগৃহীত ছবি
কক্সবাজারে সাইফুল ইসলাম (২৯) হত্যা মামলার আসামি সাদমান সিহাবকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার খুরুশকুল স্টিল ব্রিজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সাদমান এই মামলার এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি। তিনি কক্সবাজার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব টেকপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
নিহত সাইফুল শহরের পশ্চিম পাহাড়তলী এলাকার মো. হোসাইনের ছেলে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানিয়েছে এসআরবি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে গত রবিবার সকাল ১০টার দিকে সাইফুলকে পূর্বপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি শহরের বৈদ্যঘোনার জাদী পাহাড় এলাকায় ডেকে নিয়ে যান। দুপুর আড়াইটার দিকে তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সাইফুলকে তারা একাধিকবার ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সেখানে ফেলে রেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। স্থানীয়রা জাদী পাহাড়ে আহত অবস্থায় সাইফুলকে দেখতে পেয়ে তার পরিবারকে খবর দেন। পরে সাইফুলের মা ও স্থানীয় লোকজন তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মোটরসাইকেল বিক্রিকে কেন্দ্র করে সাগর বাদশা ও মো. আব্বুইয়া নামে দুই ব্যক্তি সাইফুলের ওপরে ছুরি দিয়ে হামলা চালান। মৃত্যুর আগে তিনি ওই দুজনের নাম বলে গেছেন বলেও দাবি পরিবারের।
সাইফুলের মা ছেনোয়ারা বেগম জানান, কয়েক মাস আগে আবদুল হকের ছেলে হোসেনের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল কেনেন সাইফুল। মোটরসাইকেল কেনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরেই তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে, ঘটনার পর জড়িতদের গ্রেপ্তারে ছায়া তদন্ত ও অভিযান শুরু করে এসআরবি-১৫। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুরুশকুল স্টিল ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামি সাদমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, সাইফুল যে মোটরসাইকেলটি কিনেছিলেন, সেটি কিছুদিন আগে পুলিশ আটক করেছিল। মোটরসাইকেলের জন্য উপস্থাপন করা কাগজপত্র ভুয়া ছিল বলে জানা গেছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। রবিবার একসঙ্গে মাদক সেবনের পর ওই বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে সাইফুলকে ছুরি মেরে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সাদমানকে কক্সবাজার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এসআরবি-১৫ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার আ ম ফারুক।




