কুয়াকাটায় ৯ বছর পর ফিরছে বিচ কার্নিভাল

সমুদ্র, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের কারণে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় দীর্ঘ নয় বছর পর আবারও বসতে যাচ্ছে ‘বিচ কার্নিভাল’।
পর্যটকদের আকৃষ্ট করা এবং কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে দেশ-বিদেশে তুলে ধরতে আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে ‘কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬’।
কার্নিভালকে সামনে রেখে কুয়াকাটাকে আরও আধুনিক ও আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পর্যটনসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে
রবিবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের আয়োজনে কুয়াকাটার পর্যটন হলিডে হোমসের কনফারেন্স হলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক ও পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ বি এম মোশাররফ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক মো. গনী উল আজম।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, বরিশাল বিভাগীয় ডিআইজি ট্যুরিস্ট পুলিশ অর্নিবান চাকমা, কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান, ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সেক্রেটারি জেনারেল আসাদুজ্জামান মিরাজসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, হোটেল-মোটেল মালিক, উদ্যোক্তা ও স্থানীয় অংশীজনরা।
আয়োজকরা জানান, কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে দেশ-বিদেশে তুলে ধরা এবং পর্যটকদের জন্য নতুন আকর্ষণ তৈরি করাই এবারের কার্নিভালের মূল লক্ষ্য। আয়োজনকে কেন্দ্র করে সৈকত ও আশপাশের এলাকায় সাজসজ্জা, পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
দুই দিনব্যাপী কার্নিভালে সৈকত ক্যাম্পিং, বিচ ফুটবল, কুইজ প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিচ উৎসব, পুঁথি পাঠ, প্রি-ইভেন্টসহ বিভিন্ন কর্মসূচি থাকবে। পাশাপাশি স্থানীয় পণ্য ও খাবার এবং কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে ঘিরেও বিভিন্ন আয়োজন রাখা হয়েছে।
দীর্ঘ বিরতির পর বিচ কার্নিভাল আয়োজনের খবরে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। তাদের প্রত্যাশা, এ আয়োজনের ফলে কুয়াকাটায় পর্যটকের আগমন বাড়বে এবং স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায় নতুন গতি সৃষ্টি হবে।
কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিরন জানান, দীর্ঘ নয় বছর পর কুয়াকাটায় এমন একটি বিচ কার্নিভাল আয়োজন নিঃসন্দেহে আনন্দের বিষয়। নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন করা গেলে শুধু ছুটির দিন নয়, সারা বছরই কুয়াকাটায় পর্যটক ধরে রাখা সম্ভব হবে। পাশাপাশি পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়ন ও বিনোদনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে কুয়াকাটা দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও এগিয়ে যাবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ বি এম মোশাররফ হোসেন জানান, কুয়াকাটাকে শুধু একটি সমুদ্রসৈকত হিসেবে নয়, পূর্ণাঙ্গ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আবাসন, বিনোদন ও পরিবেশ সংরক্ষণে সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে এবং এ অঞ্চলের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। এজন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত এবং বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির কারণে কুয়াকাটা দীর্ঘদিন ধরেই দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। দীর্ঘ নয় বছর পর বিচ কার্নিভালের আয়োজন সেই আকর্ষণ আরও বাড়াবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।



