জামায়াতের অধঃপতনের কারণ তাদের ইতিহাস : কাদের সিদ্দিকী

কিশোরগঞ্জে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম তারেকের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী— আগামীর সময়
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী একটি দুর্ভাগা দল। তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসই তাদের অধঃপতনের প্রধান কারণ।
তিনি বললেন, ‘ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান আন্দোলনের শেষ দিন পর্যন্ত জামায়াত ব্রিটিশদের পক্ষে ছিল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও পাকিস্তানি বাহিনী যখন বাংলাদেশের মানুষের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালায় তখন দলটি স্বাধীনতার পক্ষে না দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের পক্ষ নেয়। এ কারণেই তাদের আজকের এই অধঃপতন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের হৃদয়।’
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম তারেকের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কঠোর সমালোচনা করেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি।
তিনি বলেছেন, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের যে ক্ষতি করেছেন, তার জন্য ফাঁসি দেওয়া হলেও বিচার কম হয়ে যাবে। তবে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জুলাই দিবসে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ড. ইউনূসকে যে সম্মান দেখিয়েছেন, সেটিই প্রকৃত রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয়।’
বর্তমান সরকার প্রসঙ্গে কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, ‘তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পর দেশকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক- উভয় ধরনের সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তারপরও বর্তমান সরকার অধ্যাপক ইউনূসের সময়ের তুলনায় অনেক ভালোভাবে দেশ পরিচালনা করছে। তার ভাষায়, জাতীয় ক্রাইসিস তো আছেই, আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস তার চেয়েও অনেক বেশি। তারপরও অধ্যাপক ইউনূসের চেয়ে হাজার গুণ ভালো চালাচ্ছে দেশ।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার গুঞ্জন নিয়েও মন্তব্য করেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা যদি পরিকল্পিতভাবে দেশে ফেরার ঘোষণা দিতেন, তাহলে দেশের ভেতরে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নতুন করে উৎসাহ পেতেন এবং সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেতেন। কিন্তু বর্তমানে যেভাবে বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে, তাতে উল্টো সাধারণ ও নিরীহ নেতাকর্মীরাই ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
তিনি বলেন, ‘যারা কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন, তারাও এসব ঘোষণার কারণে নানা ধরনের আইনি জটিলতায় পড়ছেন এবং অনেককে কারাগারেও যেতে হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে দলের জন্য ইতিবাচক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।’





