পঞ্চগড়ে ২ হাজার ৮৫৬ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা, দুর্ভোগে জনজীবন

পঞ্চগড়ে কাঁচা রাস্তা— আগামীর সময়
কৃষি অর্থনীতি, সমতলের চা, পাথর ও বালু শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ এবং রংপুর বিভাগের জিডিপিতে শীর্ষস্থানীয় জেলা পঞ্চগড়। এ জেলায় বহু গ্রামীণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার কাঁচা ও আধাপাকা সড়কে সৃষ্টি হয়েছে গভীর গর্ত ও খানা-খন্দ। এতে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক সড়কের ৫ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ২ থেকে ৩ কিলোমিটার অংশ এখনও কাঁচা রয়ে গেছে। কোথাও আবার আংশিক পাকা হলেও বাকি অংশ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় চলাচল প্রায় দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
বোদা উপজেলার ময়দানদীঘি ইউনিয়নের আকোয়ারি পাড়ার বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারপাড়া থেকে আমলাহার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক সদর ও বোদা উপজেলার সীমানাজুড়ে হওয়ায় দীর্ঘদিনেও উন্নয়নকাজ শুরু হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা পবিত্র বর্মন বলেছেন, ‘২০ বছরের অধিক সময় ধরে এই রাস্তার বেহাল দশা। অনেক মন্ত্রী, এমপি চলে গেলো, কাজ হয় না।’
একই এলাকার ষাটোর্ধ্ব আব্দুল করিম আক্ষেপ করে বললেন, ‘আমলাহার হাইস্কুল, গার্লস্কুল, কলেজে ছেলেমেয়ে যা কষ্ট করে বাপু, বলার মত ভাষা নাই। এ জীবনে এই রাস্তা এমনই থাকবে, পাকা দেখে যেতে পারব না।’
আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের ত্রিশূলিয়া পাড়ার বাসিন্দা দেব নারায়ণ জানান, লীলার মেলা থেকে চুচুলি বটতলী যাওয়ার পথে ত্রিশূলিয়া গ্রাম হয়ে আরাজি মণ্ডলহাট পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়কে অসংখ্য গর্ত থাকায় চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় করিম মিয়া বলেছেন, ‘এ রেকর্ডীয় রাস্তা দিয়ে অনেক ছাত্রছাত্রী চুচুলি বটতলী হাইস্কুল, গার্লস স্কুল ও প্রাইমারি স্কুলে অনেক কষ্টে যায়। রাস্তাটির করুণ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চাই।’
বোদা উপজেলা থেকে মাড়েয়া বড়শশী ইউনিয়নে যাওয়ার একমাত্র সড়কটিও দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। জায়গায় জায়গায় গভীর গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের বোয়ালমারী জাতীয় মহাসড়ক থেকে হটরাপাড়া হয়ে মধুপাড়া পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের অবস্থাও একই রকম। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের ভাষ্য, কতদিন এই রাস্তা পাকা হবে বলা মুশকিল।
দেবীগঞ্জ উপজেলার লক্ষীরহাটের প্রবেশমুখেও ভাঙাচোরা সড়কের কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বাবুপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ রাসেল মন্তব্য করেন, ‘আমাদের দুর্ভেোগ দেখার কেউ নেই।’
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোতাহার আলী জানান, জেলায় ৭৩ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক এবং ১২৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের আটটি আঞ্চলিক মহাসড়ক রয়েছে। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় কিছু স্থানে সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের পঞ্চগড়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সফিউল আলম জানান, জেলায় মোট প্রায় ৪ হাজার ১৪৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ১ হাজার ৮৮৭টি সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ২৮৯ কিলোমিটার পাকা এবং ২ হাজার ৮৫৬ কিলোমিটার এখনও কাঁচা। ফলে জেলার বিস্তীর্ণ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে প্রতিদিন দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করেই চলাচল করতে হচ্ছে।





