ঘরে পানি, আশ্রয় খুঁজতে বেরিয়ে নৌকাডুবে হারাল মেয়ে

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের রসুলাবাদ গ্রাম। ছবি: আগামীর সময়
বন্যার পানি দোচালা টিনের ঘরের আড়া পর্যন্ত ছুঁয়েছে। ভেসে গেছে জিনিসপত্র। পানি বাড়ছে, ঘরে রান্নাও হচ্ছিল না। স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আব্দুল মালেক (৪০)। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে একটি ডিঙি নৌকা চড়ে বের হয় পরিবারটি। ঝোড়ো বাতাসের কবলে পড়ে ডুবে যায় নৌকাটি।
মালেক, তার স্ত্রী লাকি আক্তার (৩১) এবং তাদের দুই মেয়ে জেরিন মনি (৯), শাওরিন মনি (৭) সাঁতার কেটে কূলে ফিরতে পারলেও ভেসে যায় আরেক মেয়ে হাসনাতুল জন্নাত ঝর্ণা (১৩)। তার মরদেহ ৩ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে ডুবুরি দল।
আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের রসুলাবাদে এ ঘটনা ঘটেছে। নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা দিদারুল হক। তিনি বলেছেন, ‘বন্যার পানিতে নৌকাডুবে এক কিশোরী নিখোঁজের খবরে ফায়ার সার্ভিস যায় ঘটনাস্থলে। পরে চট্রগ্রাম থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল আনা হয়। অভিযান চালিয়ে উদ্ধার হয় নিখোঁজ কিশোরীর মরদেহ।’
স্থানীয়রা জানান, গত ৫ দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। মালেকসহ ওই এলাকার অন্তত ৩০০ পরিবারের ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। আশ্রয়কেন্দ্রে না থাকায় পরিবারগুলো নিরাপদ উঁচু স্থানে যাচ্ছিল।
আব্দুল মালেক আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘দুদিন পানির মধ্যে ভেসে ছিলাম। পানি যখন ঘরের আড়া পর্যন্ত পৌঁছায়, সবাই ঘরের চালে আশ্রয় নিলাম। সকালে একটি নৌকা পাই, তখন সিদ্ধান্ত নেই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার। তিন সন্তান, স্ত্রীকে নিয়ে নৌকা নিয়ে বানৌজা সড়কে যাচ্ছিলাম। নৌকাটি পানি ঠেলে কিছুদূর এগিয়ে যেতেই ঝড়োবাতাস বইতে শুরু করে। আমাদের নৌকাটি ডুবে যায়। আমি ও আমার স্ত্রী, জেরিন-শাওরিনকে নিয়ে সাঁতার কেটে কূলে ফিরে আসি। তবে হাসনাতুল ফিরতে পারেনি। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।’
বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কাইছার উদ্দিনের ভাষ্য, এই ওয়ার্ডের মধ্যে রসুরাবাদ খুবই নিচু। সেখানে পুরো একটি গ্রাম ডুবে গেছে। আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় ওই গ্রামের অন্তত ৩০০ পরিবার এক কিলোমিটার দূরে বানৌজা সড়কের ওপর আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে যাওয়ার পথেই মালেক তার মেয়েকে হারালেন।





