‘বেপরোয়া’ ডাম্পট্রাকে চাঁদপুরের সড়কে ৩ মাসে ১০ প্রাণহানি

দুর্ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড়। ছবি: আগামীর সময়
চাঁদপুরে দিনের বেলায় বালুবাহী ডাম্পট্রাক চলাচল বন্ধের দাবি দীর্ঘদিনের। গত তিন মাসে এই এলাকায় ডাম্পট্রাকের দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে অন্তত ১০ জনের। তারপরেও চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় নিয়ন্ত্রণহীন এই যানের চলাচল।
আজ মঙ্গলবার সকালে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় আঞ্চলিক মহাসড়কে বাসের সঙ্গে ডাম্পট্রাকের সংঘর্ষ হয়। নিহত হন দুই গাড়িরর চালকসহ তিনজন। আহত হন অন্তত ১৫ জন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নিহতরা হলেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণের লালমাই এলাকার ট্রাকচালক আব্দুল ওহাব (৪৫), আল-আরাফাহ এক্সপ্রেস বাসের চালক কামাল হোসেন (৪০) এবং বাসটির সুপারভাইজার শোভন মিয়া (৩৫)। কামাল হোসেনের বাড়ি গাইবান্ধায় এবং শোভন মিয়ার বাড়ি বাগেরহাটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সাকিব হোসেন জানান, দিনাজপুর থেকে আল-আরাফাহ এক্সপ্রেস বাসটি যাচ্ছিল হাজিগঞ্জের দিকে। আর হাজীগঞ্জ থেকে কুমিল্লা যাচ্ছিল বালুবাহী ট্রাকটি। পথে শাহরাস্তির বানিয়াচোঁ এলাকায় দুই গাড়ির সংঘর্ষে ঘটে হতাহতের ঘটনা।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আহতদের পাঠায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় কয়েকজনকে রেফার করা হয় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখান থেকে দুজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন জানিয়েছেন, চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের এই পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় ডাম্পট্রাকের বেপরোয়া চলাচল দীর্ঘদিনের। তিন মাসে এতগুলো দুর্ঘটনার পরেও নজর নেই প্রশাসনের। দিনে এসব গাড়ি চলাচল বন্ধসহ সড়কে নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তিনিসহ স্থানীয় অনেকে।
শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর বাস ও ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হবে।





