শিল্পায়নের পথে মেঘনা, নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠায় ড. মোশাররফের পদক্ষেপ

ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকলেও কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় গড়ে ওঠেনি স্বাস্থ্য বা উচ্চশিক্ষা খাতের কোনো প্রতিষ্ঠান। ফলে নদীবেষ্টিত এই চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের এখনো নির্ভর করতে হয় দূরের জেলা বা রাজধানীর ওপর। সেই সংকট ঘোচাতে মেঘনায় একটি সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর এর উদ্যোক্তা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনের সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
কোনো আন্দোলন বা জনদাবি নয়, স্থানীয় জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই তার এই উদ্যোগ।
গত ৫ মে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে দেওয়া এক আধাসরকারি চিঠিতে (ডিও লেটার) ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন মেঘনা উপজেলায় একটি সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও মেঘনায় স্বাস্থ্যশিক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। অথচ বর্তমান সময়ে দেশে দক্ষ নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। সেই চাহিদা পূরণে মেঘনায় একটি আধুনিক নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ হবে বলে তিনি মত দেন।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মেঘনার যোগাযোগব্যবস্থা বর্তমানে অনেক উন্নত। উপজেলাটি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের কাছাকাছি হওয়ায় এখানে একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হলে তা দ্রুত কার্যকর ও ফলপ্রসূ হতে পারে। এর মাধ্যমে স্থানীয় সাধারণ জনগণও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার সুফল পরোক্ষভাবে ভোগ করার সুযোগ পাবেন।
এ বিষয়ে কথা হয় মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়মা রহমানের সঙ্গে। তিনি বললেন, বর্তমানে স্বাস্থ্য খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে নার্সিং শিক্ষার গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে। সরকারি হাসপাতাল থেকে শুরু করে বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানসহ সবখানেই প্রশিক্ষিত নার্সের চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু প্রত্যন্ত ও নদীবেষ্টিত অঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থী সুযোগের অভাবে এ খাতে এগিয়ে যেতে পারে না। মেঘনায় একটি সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু এ উপজেলার শিক্ষার্থীরাই নয়, আশপাশের চরাঞ্চল ও পাশের এলাকার তরুণ-তরুণীরাও উপকৃত হবে।
একটি অঞ্চলের উন্নয়ন শুধু সড়ক বা ভবন নির্মাণে সীমাবদ্ধ থাকে না বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা। তার মতে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে টেকসই বিনিয়োগও দীর্ঘমেয়াদে সমাজকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে মেঘনায় নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
এখন মন্ত্রণালয়ের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়ে এটি দ্রুত বাস্তবায়ন করবে— এমন প্রত্যাশা তার।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের এ উদ্যোগকে আশাব্যঞ্জক হিসেবে দেখছেন উপজেলা বিএনপির নবাগত কমিটির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনী। তিনি বলছিলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির অংশ ছিল না। কিন্তু তারপরও এলাকার ভবিষ্যৎ প্রয়োজন বিবেচনায় একজন জনপ্রতিনিধি ব্যক্তিগতভাবে এ উদ্যোগ নিয়েছেন।
‘দীর্ঘদিন ধরে মেঘনায় বড় কোনো স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকলেও এ নিয়ে এর আগে তেমন সংগঠিত দাবি বা আন্দোলন দেখা যায়নি। তবে বাস্তব প্রয়োজন অনুধাবন করেই সংসদ সদস্যের এই পদক্ষেপ স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে’— যোগ করেন তিনি।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে। তারা বলছেন, শুধু চিঠির খবর শুনে আনন্দিত থাকতে চান না এলাকার মানুষ। যত দ্রুত সম্ভব মেঘনার বুকে একটি সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউট দেখতে চান তারা।
পাশাপাশি উন্নয়নের আরেকটি বড় ছোঁয়াও খুব দ্রুত লাগতে যাচ্ছে মেঘনায়। উপজেলার লুটেরচর এলাকায় ‘কুমিল্লা ইকোনমিক জোন’ গড়ে তুলছে মেঘনা গ্রুপ। শিল্পায়নের এই বড় উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এলাকায় কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
একদিকে শিল্পায়ন, অন্যদিকে স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ যেন একের ভেতর দুই মিলিয়ে মেঘনাকে ঘিরে নতুন সম্ভাবনার আলোচনা জোরালো হচ্ছে।




