‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথনের বার্তা
‘সম্মিলিত সচেতনতাই পদ্মাকে বাঁচাতে পারে’

ছবি: আগামীর সময়
ঐতিহাসিক পদ্মাসহ দেশের সব নদ-নদী রক্ষায় জনসচেতনতা গড়ে তোলাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। সম্মিলিত দায়িত্ববোধ ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমেই নদী দখল, দূষণ এবং নাব্যতা সংকট মোকাবিলা সম্ভব- এমন বার্তা সামনে রেখে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে নগরের লালনশাহ মুক্তমঞ্চ থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজনে অংশ নেন বিভিন্ন বয়সের পাঁচ শতাধিক মানুষ।
নগরের লালনশাহ মুক্তমঞ্চে সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ এই মিনি ম্যারাথনের উদ্বোধন করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বললেন, ‘রান ফর পদ্মা’ শুধু একটি ম্যারাথন নয়, এটি নদী রক্ষায় জনসচেতনতা তৈরির একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন। আমাদের সম্মিলিত সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও উদ্যোগই পারে পদ্মাসহ দেশের সব নদ-নদীকে সুরক্ষিত রাখতে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, নিরাপদ ও প্রাণবন্ত নদী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি মিনি ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারী সব প্রতিযোগীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
ম্যারাথনটি লালনশাহ মুক্তমঞ্চ থেকে শুরু হয়ে ফুড অফিস মোড় ঘুরে আবার মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়। প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ এই দৌড়ে বিভিন্ন বয়সের প্রায় ৫৫০ জন অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১৩৫ জন নারী ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথনের উপদেষ্টা ও স্থানীয় সোনালী সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক লিয়াকত আলী, সংগঠনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন, উপদেষ্টা রিক্তা পারভীন, আহ্বায়ক মো. জুলফিকার আলী হায়দার, যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন বিন মোস্তফা, সদস্য সচিব মো. জাহিদুল ইসলাম সানিসহ আয়োজক কমিটির সদস্যরা।
আয়োজকরা জানালেন, ‘রান ফর পদ্মা’ শুধু রাজশাহীর কোনো স্থানীয় আয়োজন নয়; এটি বাংলাদেশের নদী, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার একটি সামাজিক আন্দোলন। পদ্মাসহ দেশের সব নদ-নদীকে বাঁচানোর দাবি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তাদের ভাষ্য, নদী রক্ষার বিষয়টি শুধু পরিবেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি কৃষি, জীববৈচিত্র্য, জনজীবন এবং দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই তরুণ প্রজন্মসহ সমাজের সব স্তরের মানুষকে নদী রক্ষার আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতেই এই মিনি ম্যারাথনের আয়োজন করা হয়েছে।




