ওসমানীতে ফিরল বিদেশি এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইট

ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
দীর্ঘ আট বছর পর সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও বিদেশি এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইট চালু হলো। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে ওমানের সালামএয়ারের মাস্কাট–সিলেট ফ্লাইট অবতরণের মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে ১৩৩ জন যাত্রী নিয়ে সালামএয়ারের ফ্লাইটটি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। যাত্রীদের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সকাল ৯টা ২৩ মিনিটে ২২৪ জন যাত্রী নিয়ে একই উড়োজাহাজটি মাস্কাটের উদ্দেশে সিলেট ছেড়ে যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট পুনরায় চালু উপলক্ষে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে কেক কাটা ও আলোচনা সভার আয়োজন করে সালামএয়ার। এতে ঢাকায় নিযুক্ত ওমানের ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর ফাতেহা আহমেদ আল বালুশী, সালামএয়ারের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার স্টিভেন এলেন, বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ লতিফ শাহরিয়ার জাহিদী এবং সিলেট বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সালামএয়ারের সিলেট এরিয়া ম্যানেজার সেলিম আল রাজী।
সালামএয়ারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুরুতে মাস্কাট–সিলেট রুটে সপ্তাহে তিন দিন সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। আগামী মাস থেকে তা বাড়িয়ে সপ্তাহে পাঁচ দিন এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে সপ্তাহের সাত দিনই ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল প্রথম বিদেশি এয়ারলাইন্স হিসেবে দুবাইভিত্তিক ফ্লাইদুবাই ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে। তবে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে সিলেটের ফ্লাইট বন্ধ করে দেয় এয়ারলাইন্সটি। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কোনো বিদেশি এয়ারলাইন্স নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করেনি।
সালামএয়ারের ফ্লাইট চালুর মধ্য দিয়ে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হলো। মাস্কাটের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু হওয়ায় সিলেটের যাত্রীদের জন্য ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, সালামএয়ারের পর চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এয়ার আরাবিয়া ও ফ্লাইদুবাইসহ আরও কয়েকটি বিদেশি এয়ারলাইন্স ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এতে সিলেটের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ আরও সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি প্রবাসী অধ্যুষিত এ অঞ্চলের যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।








