ভারত-মিয়ানমার থেকে এলো ৩১৬ কোটি টাকার রুই-কাতলা

ছবি: আগামীর সময়
দেশির বদলে ভারত-মিয়ানমারের মাছ বাঙালির পাতে উঠেছে অনেক বছর আগেই। এখন সেই বিদেশি মাছের সরবরাহ-জোগান আরও বাড়ল। দেশীয় পুকুর-বাণিজ্যিক খামারের মাছের দাম চড়া থাকায় বাজার দখল করে নিচ্ছে এই কোল্ড স্টোরেজের বরফ জমানো রুই, কাতলা, মৃগেল ও পাঙাশ!
২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে দেশে এ চার ধরনের মাছের আমদানি রেকর্ড ছাড়িয়েছে। প্রায় ৩ হাজার টন। এই বিপুল মাছের কাস্টমস শুল্কায়িত মূল্য ছিল ৩১৬ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের এই প্রথম চার মাসে এই জাতীয় মাছ আমদানি হয়েছিল প্রায় ১৯০ কোটি টাকার। বছরের ব্যবধানে আমদানি বেড়েছে প্রায় ৬৬ শতাংশ!
দেশি তরতাজা মাছ ও আমদানি করা বরফের মাছের স্বাদের মধ্যে অনেক তারতম্য থাকে। ঠিক দামের মতোই।
আমদানি ধারাবাহিকভাবে বাড়ার প্রমাণ মেলে সর্বশেষ এপ্রিলে। এ মাসে ১০ লাখ কেজির বেশি রুই, কাতলা আমদানি হয়েছে। আর জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রতি মাসে এসেছিল ছয়-সাত লাখ কেজি।
বাজারে আমদানি করা মাছের দাপটের দুটি কারণ মনে করেন চট্টগ্রামের আমদানিকারক রুহুল কবির, দেশে উৎপাদিত মাছের চড়া দাম। সব সিজনে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় আমদানি করা মাছ বাজার দখল করেছে।
ফিশারিঘাটের ব্যবসায়ী রুহুল কবির বললেন, বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে আমদানি করা মাছ বড় ভূমিকা রাখছে।
বাজারে আমদানি করা মাছের সঙ্গে দেশি মাছের দামের ফারাক বিশাল। আমদানি করা পাঙাশ ১৬০ টাকা আর দেশি ২২০ টাকা। রুই-কাতলা আকারভেদে কেজি ২৫০-২৮০ টাকা। আর দেশি রুই-কাতলা প্রায়ই দ্বিগুণ, প্রতি কেজি ৪০০-৪৮০ টাকা।
বাংলাদেশ মূলত ভারত ও মিয়ানমার থেকে এই জাতীয় মাছ আমদানি করে। ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে ট্রাকে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় আসে। সেখান থেকে বড় অংশ ঢোকে বেনাপোল, ভোমরা ও সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কাভার্ড ভ্যানে বরফায়িত অবস্থায় বাংলাদেশে আসে। আর মিয়ানমার থেকে মাছ ট্রলারে করে সরাসরি ভেড়ে চট্টগ্রামের ফিশারিঘাট ও কক্সবাজারের টেকনাফে।




