জ্বালানির দাম বাড়ার রেশ বন্দরেও

সংগৃহীত ছবি
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর রেশ পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরেও। বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, তেলের দাম বাড়ায় এখন বন্দরের সাধারণ জেটিতে কনটেইনার ওঠানামার দরও বাড়াতে হবে। বন্দরের ছয় জেটিতে কনটেইনার ওঠানামার ২৯ শতাংশ কাজ করেন এই অপারেটররা। জেটিতে কনটেইনার ওঠানামায় ব্যবহৃত যন্ত্রগুলো ডিজেলচালিত। ফলে ডিজেলের দাম বাড়ায় তারাও এখন বিপাকে।
কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের দর বাড়ানো হলে এর প্রভাব পড়বে সারা দেশের সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। আমদানিনির্ভর বাংলাদেশে খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতি, সব খাতেই বাড়তি ব্যয়ের প্রভাব পড়বে।
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ বার্থ অপারেটরস, টার্মিনাল অপারেটর অ্যান্ড শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজল ইকরাম চৌধুরী চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে দর সমন্বয়ের দাবি জানান। চিঠির অনুলিপি বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক পরিবহন দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে। সংগঠনের নেতাদের যুক্তি, ২০২২ সালের দরপত্রে যখন কনটেইনার ওঠানামার কাজ মেলে, তখন ডিজেলের দাম ছিল ৮০ টাকা লিটার। গত রবিবার সেটি বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে। সেই থেকে এ পর্যন্ত জ্বালানির দাম প্রায় ৬৯ শতাংশ বেড়েছে। চার বছরে অনেকবার দাবি সত্ত্বেও তেলের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে দর ঠিক করা হয়নি।
কনটেইনার জেটির অপারেটর এফকিউ খান অ্যান্ড সন্সের মালিক আবু শরীফ বললেন, ‘প্রতিবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ে, বন্দরকে সমন্বয়ের দাবি জানাই। কিন্তু সাড়া মেলে না। সমন্বয় না করলে বিদ্যমান চুক্তির রেটে বার্থ অপারেশন চালিয়ে যাওয়া আমাদের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’
দেশের অন্যান্য খাতে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য এরই মধ্যে সমন্বয় করা হলেও বন্দর খাতে তা ঝুলে আছে উল্লেখ করে কয়েকজন বার্থ অপারেটর বললেন, অবিলম্বে উচ্চ জ্বালানি ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কনটেইনার হ্যান্ডলিং দর সংশোধন হোক।
তবে কনটেইনার ওঠানামার দর বাড়ানোর দাবি জানালেও সাধারণ কার্গো বার্থের ছয় জেটিতে পণ্য ওঠানামার দর সমন্বয়ের দাবি করেননি কেউ।



