কিশোরীকে ধর্ষণের পর খুনের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যায় আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রামের দ্বিতীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন।
ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী রায়ের বিষয়টি জানিয়েছেন। দণ্ডিত মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম মিঠুর (৩২) বাড়ি হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মির্জাপুর গ্রামে।
২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের খিল্লাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছোট্ট মিয়ার মেয়ে মোছাম্মৎ কলি আক্তার (১৫) নিখোঁজ হন। পরদিন সন্ধ্যায় তার লাশ বাড়ির অদূরে পুকুরপাড়ে পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকে অর্ধগলিত অবস্থায় পাওয়া যায়।
অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুম করে রাখার অভিযোগে ১৮ অক্টোবর থানায় মামলা করেন নিহতের বাবা। প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নজরুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ধর্ষণের পর হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন আসামি। ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ তদন্ত কর্মকর্তা হাটহাজারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল জলিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
তাতে বলা হয়, নজরুল ও কলি তালতো ভাই-বোন। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন নজরুল তাকে পুকুরপাড়ে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকে ফেলে রেখে যায়।
পিপি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী জানালেন, ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (২) ধারায় আসামিকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছেন। তবে একই আইনের ৭ ধারায় অপহরণের অভিযোগ থেকে আসামিকে খালাস দিয়েছেন। লাশ গুমের অভিযোগ প্রমাণ হলেও একই ঘটনার ধারাবাহিকতা বিবেচনায় আদালত দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় আসামিকে কোনো সাজা দেননি।
অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হলেও আসামিকে মৃত্যুদণ্ড না দেওয়ার বিষয়টি আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন। এতে বলা হয়েছে, আদালতের কাছে ঘটনাটি আগে থেকে পরিকল্পিত মনে হয়নি। আসামি ছিলেন নিরস্ত্র। ঘটনার সময় বয়স ছিল মাত্র ২৪। গ্রেপ্তারের পরদিনই দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। আগের কোনো সাজাও নেই। ইতোমধ্যে আসামির আট বছর হাজতে কেটেছে। ভবিষ্যতে সংশোধনের অযোগ্য এমন কিছু রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে উপস্থাপন করেননি আসামি।



