জলাবদ্ধতা প্রকল্পে লুটপাটের হিসাবও বের করা হবে : অর্থমন্ত্রী

ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান ১৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম বা লুটপাট হয়ে থাকলে তার হিসাব বের করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘এই লুটপাটের সঙ্গে কারা জড়িত, সেটাও বের করা হবে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রামবাসীকে জলাবদ্ধতার কষ্ট থেকে মুক্তি দেওয়া।’
আজ শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে নগরীর প্রবর্তক মোড় এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প পরিদর্শনে আসেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী।
হিজড়া খালের সংস্কারকাজের অগ্রগতি নিয়ে তাকে অবহিত করেন জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কর্মকর্তারা। এরপর তিনি নগরীর মুরাদপুর এন মোহাম্মদ কনভেনশন এলাকা পরিদর্শনে যান। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।
গত ২৮ ও ২৯ এপ্রিল এসব এলাকায় কোমর পরিমাণ পানি জমে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বললেন, ‘ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের কারণে সরকারি তহবিলের অবস্থা কঠিন। বিদ্যুৎ বিল, তেলের বিল ও গ্যাসের বিল- এগুলো দিতে গিয়ে কঠিন অবস্থার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিগত সরকারগুলোর আর্থিক দায়ভারও বহন করতে হচ্ছে আমাদের। এরপরও চট্টগ্রামের এই প্রকল্পকে প্রাধান্য দিয়ে দেওয়া হচ্ছে অর্থ বরাদ্দ।’
প্রকল্প নেওয়া হলেও আগে যথাযথভাবে অর্থায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন মন্ত্রী।
চলমান জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে নগরীর দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকাংশে সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী।
তিনি জানালেন, ‘কোথায় কোথায় সমস্যা আছে, আমরা দেখছি। অনেকে খালের জায়গা দখল করে বাড়িঘর করেছে, এগুলো সরাতে হচ্ছে। রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করতে হচ্ছে। কোথাও গভীরতা বাড়ানো হচ্ছে, কোথাও প্রশস্ততা বাড়ানো হচ্ছে। প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ বছরের শেষের দিকে প্রকল্প শেষ হবে। এরপর কখনো অস্বাভাবিক বৃষ্টি হলে সাময়িক জলাবদ্ধতা হতে পারে। তবে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা থাকবে না।’
প্রকল্প বাস্তবায়নের পর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মেয়রের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিয়ে সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বললেন, ‘আগে সমন্বয়ের অভাব ছিল। এখন সবাই একসঙ্গে কাজ করছে।’
খাল-নালায় ময়লা ফেলার প্রবণতা থেকে নগরবাসীকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষ্য, ‘অনেকে খালকে ডাস্টবিন মনে করেন। এই মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। প্রকল্প সফল করতে জনগণের সহযোগিতাও প্রয়োজন।’
এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ভূমি ও পাবর্ত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিবুল আহসান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম।




