জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রামের বেশিরভাগ স্কুলের পরীক্ষা স্থগিত

ছবি: আগামীর সময়
টানা ভারী বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে স্থগিত করা হয়েছে চট্টগ্রাম নগরের বেশিরভাগ সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা। তবে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা নেওয়ায় দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।
পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থগিত করা হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অধীন ৪৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ছয়টি কিন্ডারগার্টেনের আজ মঙ্গলবারের পরীক্ষা।
এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গত তিন দিন ধরে টানা বৃষ্টির পর আজ ভোর থেকে আবারও মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে হাঁটুসমান পানি জমে যায় নগরের বিভিন্ন এলাকায়।
আজ সকাল থেকেই আগ্রাবাদ, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, ফরিদার পাড়া, চান্দগাঁও, চকবাজারের তেলেপট্টি মোড় এবং ইশান মহাজন সড়কসহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় বিভিন্ন এলাকায়। হাঁটুসমান পানি জমে আগ্রাবাদ ও কাতালগঞ্জের কয়েকটি সড়কে। ইশান মহাজন সড়কে একটি বড় গাছ ভেঙে পড়ায় বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচলও।
চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, ‘প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মঙ্গলবারের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরে সুবিধাজনক সময়ে এ পরীক্ষা নেওয়া হবে। আজ সকাল ৮টার মধ্যেই সব প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
একই কারণে পরীক্ষা স্থগিত করেছে নগরের স্যার মরিস ব্রাউন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং নন্দনকাননের ফুলকি সহজ পাঠ বিদ্যালয়ও।
স্যার মরিস ব্রাউন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুজহাত নাঈম সিদ্দিকী জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া বিবেচনা করে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য প্রথম সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
তবে চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অর্ধবার্ষিক ও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পঞ্চম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ এবং দশম শ্রেণির ‘ইংরেজি প্রথম পত্র’ পরীক্ষা নেওয়া হয়।
অভিভাবকদের তীব্র আপত্তির পর শেষ পর্যন্ত দুপুর ১টা থেকে অনুষ্ঠিতব্য ষষ্ঠ শ্রেণির ‘ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র’ এবং নবম শ্রেণির ‘ইংরেজি প্রথম পত্র’ পরীক্ষা স্থগিত করে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা থেকে আসা এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, জলাবদ্ধতা ও ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেই সন্তানকে নিয়ে যেতে হয়েছে স্কুলে। পথে বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুসমান পানি থাকায় পোহাতে হয়েছে দুর্ভোগ।
তার ভাষ্য, সময়মতো সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ নুরুল আমিন স্বীকার করেছেন, পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা দেরি হয়েছে। এর মধ্যেই অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে পৌঁছে যাওয়ায় সকালের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তবে বিকেলের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তার দাবি, সকালের পরীক্ষায় প্রায় ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক ফজলুল কাদের চৌধুরী আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘এটি কোনো পাবলিক পরীক্ষা নয়। তাই আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রয়েছে। অনুকূল পরিবেশ না থাকলে পরীক্ষা স্থগিত করে পরে সুবিধাজনক সময়ে নেওয়াই নিয়ম।’





