চকলেট: বিদ্রোহীদের আড্ডা থেকে জমকালো উৎসবে

প্রতীকী ছবি
শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সের মানুষের প্রিয় চকলেটের রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস। একে নিয়ে আছে বিচিত্র সব ঘটনা ও বিস্ময়কর নানা গল্প। আজ ৭ জুলাই বিশ্ব চকলেট দিবসে পাঠকদের জন্য থাকছে চকলেট নিয়ে রকমারি স্বাদের ১০ তথ্য
১. চকলেটের ইতিহাস ৫ হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো
বর্তমান ইকুয়েডরের প্রাচীন মায়ো-চিঞ্চিপে সভ্যতায় প্রায় ৫,৩০০ বছর আগে কোকো ব্যবহার করা হতো। পরে মায়া ও অ্যাজটেক সভ্যতায় কোকো দিয়ে তৈরি গরম পানীয় ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়।
২. ব্রিটেনে প্রথম কোকোকে মনে করা হয়েছিল ভেড়ার বিষ্ঠা!
১৬ শতকে স্পেন থেকে আসা একটি কোকোবোঝাই জাহাজ ব্রিটিশদের হাতে ধরা পড়ে। কোকো বীজ চিনতে না পেরে তারা সেটিকে ভেড়ার বিষ্ঠা ভেবে পুড়িয়ে ফেলেছিল।
৩. চকলেট নিয়ে পোপকে পর্যন্ত সিদ্ধান্ত দিতে হয়েছিল
১৭ শতকে ক্যাথলিক ধর্মযাজকদের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়—উপবাসের দিনে চকলেট খাওয়া যাবে কি না। শেষ পর্যন্ত পোপ সপ্তম আলেকজান্ডার ঘোষণা দেন, চকলেট একটি পানীয়; তাই নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তা পান করা যাবে।
৪. একসময় চকলেট ছিল বিদ্রোহীদের আড্ডার সঙ্গী
ইংল্যান্ডে ১৬৬০-এর দশকে চকলেটের দোকান ও কফিহাউস ছিল বুদ্ধিজীবী, রাজনৈতিক চিন্তাবিদ এবং প্রতিবাদী মানুষের মিলনস্থল। রাজা দ্বিতীয় চার্লস এসব আড্ডাকে বিদ্রোহের কেন্দ্র মনে করে বন্ধ করারও চেষ্টা করেছিলেন।
৫. জনপ্রিয় অনেক চকলেটের বয়স প্রায় এক শতাব্দী
ক্যাডবেরির ফ্লেক, ফ্রুট অ্যান্ড নাট, মার্স বার, কিটক্যাট, মাল্টিজার্স, অ্যারো ও স্মার্টিজ—এসব জনপ্রিয় চকলেটের জন্ম ১৯২০ ও ১৯৩০-এর দশকে।
৬. অতিরিক্ত চকলেট ওজন বাড়াতে পারে
বিশেষ করে দুধ চকলেট ও সাদা চকলেটে চিনি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকে। অতিরিক্ত খেলে ক্যালোরি বেড়ে ওজন বৃদ্ধি এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে পরিমিত ডার্ক চকলেটে উপকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও থাকে। পশ্চিমের নাগরিকদের অবেসিটির সঙ্গে চকলেটের যোগসাজশ খুঁজে পান অনেক বিশেষজ্ঞ।
৭. চকলেটের প্রকৃত আবিষ্কারক কে—তা এখনো নিশ্চিত নয়
অনেকে মনে করেন অলমেক সভ্যতা প্রথম কোকো ব্যবহার করেছিল। তবে সাম্প্রতিক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় ইকুয়েডরের মায়ো-চিঞ্চিপে সভ্যতার আরও প্রাচীন কোকো ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফলে এ নিয়ে গবেষণা এখনো চলছে।
৮. সাদা চকলেটের জন্ম হয়েছিল চিকিৎসার প্রয়োজনে
১৯৩০-এর দশকে সুইজারল্যান্ডে হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের ভিটামিনসমৃদ্ধ দুধ খাওয়াতে কোকো বাটার মেশানো হয়। সেখান থেকেই দুর্ঘটনাবশত সাদা চকলেটের উদ্ভব।
৯. চকলেটকে ঘিরে হয় বিশাল উৎসব
ইতালির পেরুজিয়ার ইউরোচকলেট, ফ্রান্সের সালোঁ দ্য শকোলা, লন্ডনের চকলেট উইক, জার্মানির চকলআর্টসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিবছর লাখো দর্শনার্থীর অংশগ্রহণে চকলেট উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।১০. কোকোর রয়েছে অন্তত ১১টি জিনগত বৈচিত্র্য
একসময় কোকোকে তিনটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করা হলেও আধুনিক জিনগত গবেষণায় অন্তত ১১টি স্বতন্ত্র বৈচিত্র্যের অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়েছে। এসব বৈচিত্র্যের স্বাদ, সুবাস ও উৎপাদন বৈশিষ্ট্য একেক রকম।
সূত্র: বিবিসি, টোয়াক চকলেট, মেডিকেল নিউজ টুডে







