Agamir Somoy E-Paper
সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
প্রতিবন্ধীদের সেবায় কাজল
সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় সেইসব রহস্য

পালক লেক: নীল জলের নিচে হারিয়ে যাওয়া এক গ্রামের রহস্য

শিভাশিষ ভট্টাচার্য, মিজোরাম থেকে
agamir somoy
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৩
পালক লেক: নীল জলের নিচে হারিয়ে যাওয়া এক গ্রামের রহস্য

সংগৃহীত ছবি

পাহাড়ের পথ কখনোই সহজ হয় না। মিজোরামের দক্ষিণ প্রান্তে সেই পথ যেন আরও বেশি আঁকাবাঁকা, আরও বেশি নির্জন। একদিকে খাড়া পাহাড়, অন্যদিকে গভীর খাদ; কোথাও ঘন জঙ্গল রাস্তার ওপর ঝুঁকে পড়েছে, কোথাও আবার পাহাড়ের গায়ে ছোট ছোট জনপদ। যত এগোনো যায়, সভ্যতার চেনা শব্দ ততই পেছনে পড়ে থাকে।

তারপর হঠাৎ একসময় সামনে খুলে যায় বিস্ময়ের এক দরজা। সবুজ পাহাড়ের বুকের মধ্যে নীল জলের বিশাল এক আয়না।

দূর থেকে মনে হয়, পাহাড়ের শরীরে কেউ যেন নিখুঁতভাবে এঁকে দিয়েছে এক টুকরো আকাশ। বাতাসে জঙ্গলের গন্ধ, চারপাশে নিস্তব্ধতা, আর সেই নিস্তব্ধতার মাঝখানে শান্ত হয়ে পড়ে আছে পালক লেক।

কিন্তু এই সৌন্দর্যের দিকে একটু বেশি সময় তাকিয়ে থাকলেই মনে হতে পারে—এই জলের নিচে কি সত্যিই লুকিয়ে আছে কোনো পুরনো গল্প?

স্থানীয় মানুষ যে গল্পটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বলে আসছেন, সেটি নিছক কোনো ভ্রমণকাহিনি নয়। সেই গল্পে আছে একটি হারিয়ে যাওয়া গ্রাম, একটি বিশাল সাপ, এক বিধবা নারী এবং এক ভয়াবহ বন্যা। আর সেই গল্পের শেষেই জন্ম নেয় এই হ্রদ।

এই কারণেই পালক লেক শুধু একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নাম নয়। এটি মিজোরামের দক্ষিণের পাহাড়ি ভূদৃশ্যে প্রকৃতি ও লোককথার এক অদ্ভুত মেলবন্ধন।

পালক লেক মিজোরামের দক্ষিণাঞ্চলের সাইহা জেলার ফুরা গ্রামের কাছে, মারা স্বশাসিত জেলা পরিষদ এলাকার মধ্যে অবস্থিত। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘পালা টিপো’ বা ‘পালা টিপা’ নামে পরিচিত।
মারা ভাষায় এই নামের সঙ্গে ‘গিলে ফেলা’ বা ‘ডুবিয়ে দেওয়া’র অর্থ জড়িয়ে আছে। নামটির মধ্যেই যেন লুকিয়ে রয়েছে হ্রদের সবচেয়ে বিখ্যাত লোককথার ইঙ্গিত।

পালক মিজোরামের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক হ্রদ। এটি অবস্থিত ইন্দো-বার্মা জীববৈচিত্র্য হটস্পটের মধ্যে। হ্রদ ও তার চারপাশের পাহাড়ি বনাঞ্চল তাই শুধু চোখের জন্য সুন্দর নয়, জীববৈচিত্র্যের দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পালক ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই হ্রদ। পালক ওয়েটল্যান্ড রিজার্ভের আয়তন প্রায় ১৮.৫ বর্গকিলোমিটার। এর মূল জলভাগ প্রায় ১.৫ বর্গকিলোমিটার।

এখানে দুটি জলাশয়ের কথাও উল্লেখ করা হয়—টিপো পিনো এবং টিপো তাও। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এসব জলাশয়ের জলের স্তরেও পরিবর্তন ঘটে।

হ্রদের পৃষ্ঠ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৭৪ মিটার উচ্চতায়। চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা লিয়াপাহলো পাহাড়শ্রেণির উচ্চতা প্রায় ৫০০ থেকে ৫৮৯ মিটার। ফলে পালক লেককে ঘিরে তৈরি হয়েছে পাহাড়, বন ও জলের এক স্বাভাবিক অ্যাম্ফিথিয়েটার।
বাংলাদেশের পাঠকের কাছে মিজোরামের পাহাড়ি ভূদৃশ্য হয়তো কিছুটা পরিচিত মনে হতে পারে—সবুজ পাহাড়, মেঘ, বৃষ্টি আর ঘন বন। কিন্তু পালকের পরিবেশে রয়েছে আলাদা এক নিঃসঙ্গতা। এখানে পর্যটকের ভিড় নেই, নেই বড় কোনো পর্যটনকেন্দ্রের কোলাহল। বরং দূরত্ব আর দুর্গমতাই জায়গাটিকে ধরে রেখেছে তার নিজস্ব চরিত্রে।

মিজোরামের রাজধানী আইজল থেকে পালক লেকের দূরত্ব প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার। সাইহা শহর থেকে প্রায় ৯৭ কিলোমিটার।

হ্রদের সবচেয়ে কাছের গ্রাম ফুরা। হ্রদ থেকে যার দূরত্ব প্রায় ছয় কিলোমিটার। পর্যটকদের জন্য ফুরাই মূলত পালক লেকের প্রবেশপথ। কাছাকাছি রয়েছে টংকালং ও লংবান গ্রামের মতো জনপদ।
তবে পালক লেকে পৌঁছানোর পথকে একেবারেই সহজ বলা যাবে না।

ফুরার পরের অংশে রাস্তা দুর্গম। ছোট বা হালকা গাড়িতে যাতায়াত তুলনামূলক সুবিধাজনক। আর এই দুর্গম পথই হয়তো পালকের সৌন্দর্যের একটি কারণ। কোনো জায়গায় যখন পৌঁছানো সহজ হয় না, তখন সেখানে পৌঁছানোর আনন্দও অন্যরকম।

পাহাড়ি পথে যেতে যেতে চারপাশের দৃশ্য বদলাতে থাকে। মানুষের বসতি কমে আসে। বন ঘন হয়। শব্দ কমে যায়। আর তারপর যখন হঠাৎ সামনে নীল জল দেখা যায়, মনে হয় এতক্ষণ যেন শুধু সেই দৃশ্যটির কাছেই পৌঁছানোর প্রস্তুতি চলছিল।
পালক লেকের সঙ্গে সবচেয়ে বিখ্যাত যে গল্পটি জড়িয়ে আছে, তার শুরু বহু শতাব্দী আগে।

স্থানীয় লোককথা অনুযায়ী, বর্তমান হ্রদের জায়গায় একসময় ছিল হ্নিচাও নামে একটি গ্রাম। সেখানে প্রায় ৩০০টি পরিবার বসবাস করত।

গ্রামের মাঝখানে ছিল একটি বিশাল পাথর। সেই পাথরের নিচে ছিল গভীর একটি গুহা। আর সেই গুহার ভেতরে বাস করত এক বিশাল সাপ।
গল্পের পরবর্তী অংশটি যেন কোনো পাহাড়ি লোককথার অন্ধকার অধ্যায়।

গ্রামের মানুষ একসময় লক্ষ্য করতে শুরু করে, শিশু ও গবাদিপশু একের পর এক নিখোঁজ হচ্ছে। কোথাও তাদের সন্ধান নেই। কে বা কী তাদের নিয়ে যাচ্ছে, কেউ জানে না।
কিছুদিন পর সন্দেহ গিয়ে পড়ে সেই বিশাল সাপটির ওপর।

গ্রামবাসীরা সিদ্ধান্ত নেয়, সাপটিকে যেভাবেই হোক ধরতে হবে।

অনেক চেষ্টা করে তারা একটি বিশাল মাছ ধরার খুঁটি বা ফাঁদের মতো ব্যবস্থা তৈরি করে। সাপকে গুহা থেকে বের করে আনতে টোপ হিসেবে কোথাও ছাগল, আবার কোথাও কুকুর ব্যবহারের কথা বলা হয়।
অবশেষে সাপটি ধরা পড়ে।

এরপর তাকে মেরে তার মাংস গ্রামের মানুষের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়।
আর সেখান থেকেই শুরু হয় গল্পের সবচেয়ে ভয়ংকর অংশ।

গল্পের একটি প্রচলিত সংস্করণ অনুযায়ী, গ্রামের এক বিধবা নারী তাঁর দুই সন্তানসহ ভাগে পেয়েছিলেন সাপটির মাথা।

বাড়িতে এনে তিনি যখন সেটি রান্না করতে শুরু করেন, তখন হঠাৎ তাঁর চোখে পড়ে অস্বাভাবিক একটি দৃশ্য।

মৃত সাপটির চোখ নাকি তখনও নড়ছিল।

আতঙ্কিত নারী রান্নার পাত্রটি বাড়ির বাইরে ছুড়ে ফেললেন।

তারপরই যেন শুরু হলো বিপর্যয়।

পাত্র থেকে পানি বেরিয়ে এসে উঠোনে জমতে শুরু করল। প্রথমে সামান্য, তারপর আরও বেশি। পানি ক্রমে বাড়তে লাগল।

বিপদ বুঝে ওই নারী দুই সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যান।

কিন্তু পানি আর থামেনি।

মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে গোটা গ্রামে।
ডুবে যায় হ্নিচাও।

হারিয়ে যায় শত শত মানুষের জীবন।

আর স্থানীয় লোককথার বিশ্বাস—সেই ডুবে যাওয়া গ্রামের জায়গাতেই পরে তৈরি হয় পালক লেক।

এ কারণেই ‘পালা টিপো’—গিলে ফেলা বা ডুবিয়ে দেওয়া হ্রদ।

তবে এই কাহিনির আরেকটি সংস্করণও স্থানীয়ভাবে প্রচলিত।

সেখানে বলা হয়, গ্রামবাসীরা সাপটিকে ধরতে পারলেও তাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত সাপটির শরীরের মাঝখান কেটে ফেলা হয়।

সাপের শরীরের নিচের অংশ গিয়ে আঘাত করে সেই গভীর গুহায়।

এরপরই নাকি শুরু হয় প্রচণ্ড ভূমিকম্প।

মাটি ফেটে যায়। সেই ফাটল দিয়ে পানি বেরিয়ে এসে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। শেষ পর্যন্ত পানির নিচে চলে যায় পুরো গ্রাম।

দুটি গল্পের বিবরণ আলাদা। কিন্তু শেষ একই—একটি গ্রাম হারিয়ে যায়, আর তার জায়গায় জন্ম নেয় বিশাল জলাধার।

বাস্তবে এই লোককথার কোনো নিশ্চিত ঐতিহাসিক বা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এটি স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের মুখে মুখে চলে আসা বিশ্বাস ও কাহিনি।

কিন্তু লোককথার সত্যতা অনেক সময় শুধু ইতিহাসের দলিলে খুঁজে পাওয়া যায় না। কোনো একটি গল্প যখন একটি সমাজের স্মৃতির অংশ হয়ে যায়, তখন তার আলাদা একটি জীবন তৈরি হয়।
পালক লেকের ক্ষেত্রেও যেন সেটিই হয়েছে।

পালককে ঘিরে হ্নিচাও গ্রামের গল্পই একমাত্র রহস্য নয়।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্থানীয় মানুষের মুখে নানা গল্প শোনা যায়—অদৃশ্য মানুষের কথা, রাতের অদ্ভুত শব্দ, অচেনা প্রাণীর উপস্থিতি কিংবা হ্রদের গভীরে বসবাসকারী কোনো রহস্যময় শক্তির কথা।

কেউ কেউ বিশ্বাস করেন, হ্নিচাও গ্রামের যেসব মানুষ হ্রদের পানিতে ডুবে মারা গিয়েছিলেন, তাঁদের আত্মা এখনও এই এলাকার সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

এসব বিশ্বাসের সত্যতা যাচাই করা কঠিন। কিন্তু গভীর রাতে পাহাড়ের নিস্তব্ধতার মধ্যে একটি বিশাল হ্রদের পাশে দাঁড়ালে মানুষের কল্পনা যে সহজেই গল্পের সঙ্গে মিশে যেতে পারে, তা বোঝা কঠিন নয়।
পালক লেকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরও একটি অদ্ভুত গল্প।

কথিত আছে, একসময় এক ব্রিটিশ কর্মকর্তার একটি তলোয়ার হ্রদের পানিতে পড়ে যায়। তিনি স্থানীয় এক ব্যক্তিকে সেটি উদ্ধার করতে বলেন। লোকটি তিন দিন পর ফিরে আসে।

কেন এত দেরি হলো—জিজ্ঞেস করলে তার উত্তর ছিল আরও বিস্ময়কর।

সে নাকি হ্রদের নিচে গিয়ে তলোয়ারটি খুঁজে পেয়েছিল। সেখানে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করতে করতে এতটাই মেতে উঠেছিল যে ফিরতে তিন দিন লেগে যায়!

গল্পটি সত্যি কি না, জানা যায় না। তবে পালক লেককে ঘিরে তৈরি হওয়া রহস্যের আবহে এমন একটি গল্প যেন অস্বাভাবিকও লাগে না।

হ্রদের দিকে তাকিয়ে তখন মনে হয়, কে জানে—জলে নিচে সত্যিই কি কোনো হারানো জগতের গল্প লুকিয়ে আছে?

লোককথা পালককে রহস্যময় করেছে, কিন্তু প্রকৃতি তাকে দিয়েছে আরও বড় পরিচয়।

ইন্দো-বার্মা জীববৈচিত্র্য হটস্পটের মধ্যে অবস্থান করার কারণে পালক লেক ও এর আশপাশের বনাঞ্চল অত্যন্ত সমৃদ্ধ।

হ্রদের জলে বিভিন্ন ধরনের মাছ, চিংড়ি, শামুক, কাঁকড়া, কচ্ছপসহ নানা জলজ প্রাণীর উপস্থিতি রয়েছে। আর চারপাশের ঘন পাহাড়ি বন অসংখ্য পাখির আবাসস্থল।

এ অঞ্চলে ৭০টিরও বেশি প্রজাতির পাখির উপস্থিতির কথা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নেপাল ফুলভেটা, হোয়াইট-বেলিড ইউহিনা, লিটল স্পাইডারহান্টার, স্ট্রিকড স্পাইডারহান্টার, ইয়েলো ওয়াগটেইল, ব্ল্যাক-ক্যাপড কিংফিশার, হুডেড পিট্টা, স্পট-ব্রেস্টেড স্কিমিটার ব্যাবলার এবং হোয়াইট-রাম্পড মুনিয়া। পাখির ডাক, ঘন অরণ্য আর নীল জল—প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য পালক তাই নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়।

ঘন জঙ্গলের কারণে এই অঞ্চলে বুনো হাতির চলাচলের কথাও স্থানীয়ভাবে শোনা যায়।

পালক লেককে ঘিরে পর্যটনের সম্ভাবনা অনেক। কিন্তু সেই সম্ভাবনার সঙ্গে রয়েছে দায়িত্বও।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জায়গাগুলোতে পর্যটক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে প্লাস্টিক বর্জ্য, অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ, শব্দদূষণ এবং বনাঞ্চলের ওপর চাপ। পালকের মতো সংবেদনশীল জলাভূমি ও পাহাড়ি বাস্তুতন্ত্রে এসব প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে। তাই এখানে পর্যটনের বিকাশের সঙ্গে সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

হ্রদের আশপাশের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকা সংরক্ষণের আওতায় রাখার উদ্যোগের কথাও জানা যায়। মূল লক্ষ্য—হ্রদ ও তার চারপাশের বন, জলাভূমি এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা করা।
কারণ পালকের সৌন্দর্য শুধু জলে নয়।

এর সৌন্দর্য পাহাড়ে, বনে, পাখির ডাকে, নীরবতায় এবং মানুষের গল্পে।

ভ্রমণ মানেই শুধু নতুন কোনো জায়গায় যাওয়া নয়। কখনো কখনো একটি জায়গার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা গল্পকে নিজের সঙ্গে নিয়ে ফিরে আসাও ভ্রমণের অংশ।
পালক লেক তেমনই একটি জায়গা।

এখানে গেলে প্রথমে চোখে পড়ে নীল জল। তারপর সবুজ পাহাড়। তারপর ঘন বন। তারপর হয়তো কোনো পাখির ডাক।

কিন্তু একটু বেশি সময় সেখানে থাকলে মনে হতে পারে, এই নীরবতার ভেতরে আরও কিছু আছে।

হয়তো হ্নিচাও গ্রামের স্মৃতি।

হয়তো সেই বিশাল সাপের গল্প।

হয়তো কোনো বিধবা নারীর আতঙ্ক।

হয়তো জলে হারিয়ে যাওয়া শত শত মানুষের লোকস্মৃতি।

অথবা হয়তো কিছুই নেই—শুধু পাহাড়ি প্রকৃতির স্বাভাবিক রহস্যময়তা, যাকে মানুষ গল্প দিয়ে অর্থ দিয়েছে।

সত্যিটা যাই হোক, পালক লেকের আকর্ষণ সেখানেই।

সেই জলের দিকে তাকালে মনে হয়—কোনো কোনো জায়গার ইতিহাস বইয়ে লেখা থাকে না। লেখা থাকে মানুষের মুখে মুখে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।
পালক লেকের ইতিহাসও হয়তো তেমনই।

তবে পাহাড়ের নীরবতার মধ্যে দাঁড়িয়ে হ্রদের দিকে তাকালে একটি প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে—
এই নীল জলের নিচে কি সত্যিই হারিয়ে আছে একটি গ্রাম, নাকি হারিয়ে যাওয়া সেই গ্রামের গল্পই পালক লেককে চিরকাল রহস্যময় করে রেখেছে?
হয়তো এই প্রশ্নের উত্তর না পাওয়াই ভালো।
কারণ কিছু রহস্যের সৌন্দর্য তার সমাধানে নয়—রহস্য হয়েই থেকে যায়।

রহস্যগল্পফিচার
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    ভয় না পেয়ে পরিবর্তন গ্রহণ করেন যারা ভবিষ্যৎ তাদেরই

    ভয় না পেয়ে পরিবর্তন গ্রহণ করেন যারা ভবিষ্যৎ তাদেরই

    ইসলামী ব্যাংকে ১ মাসে আমানত কমল ১৯ হাজার কোটি

    ইসলামী ব্যাংকে ১ মাসে আমানত কমল ১৯ হাজার কোটি

    দিনাজপুর থেকে ফিরছিলেন সিলেটে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রাণ গেল শাবিপ্রবি ছাত্রীর

    দিনাজপুর থেকে ফিরছিলেন সিলেটে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রাণ গেল শাবিপ্রবি ছাত্রীর

    প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে বিএনপি নেতাদের সালিশ, পরদিন নারীর আত্মহত্যা

    প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে বিএনপি নেতাদের সালিশ, পরদিন নারীর আত্মহত্যা

    পদোন্নতির দাবিতে মাউশিতে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের অবস্থান

    পদোন্নতির দাবিতে মাউশিতে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের অবস্থান

    সাঈদীর মামলার সাক্ষী মানিক পশারীর কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-কন্যা, দাফন প্রশাসনের সহায়তায়

    সাঈদীর মামলার সাক্ষী মানিক পশারীর কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-কন্যা, দাফন প্রশাসনের সহায়তায়

    পর্যটকদের জন্য ১ নভেম্বর খুলছে সেন্টমার্টিন

    পর্যটকদের জন্য ১ নভেম্বর খুলছে সেন্টমার্টিন

    সিজার বাণিজ্য : ৫০ হাজারের চুক্তি, বিল দেড় লাখ টাকা

    সিজার বাণিজ্য : ৫০ হাজারের চুক্তি, বিল দেড় লাখ টাকা

    কথাকারের মোড়কে আদতে এক ক্ষ্যাপা কবি

    কথাকারের মোড়কে আদতে এক ক্ষ্যাপা কবি

    ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মিলবে দিনে

    ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মিলবে দিনে

    ভিডিও করেন পাকিস্তানি, ছড়িয়ে দেওয়া ভারতীয় যুবকও সৌদি কারাগারে

    ভিডিও করেন পাকিস্তানি, ছড়িয়ে দেওয়া ভারতীয় যুবকও সৌদি কারাগারে

    অটোরিকশা নিয়ে পালাচ্ছে চোর, মসজিদের মাইকে ঘোষণার পর পিটুনিতে নিহত ২

    অটোরিকশা নিয়ে পালাচ্ছে চোর, মসজিদের মাইকে ঘোষণার পর পিটুনিতে নিহত ২

    প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে আলোচনায় মাতারবাড়ী বিজনেস হাব

    প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে আলোচনায় মাতারবাড়ী বিজনেস হাব

    জন্মদিনে সুখবর দিলেন পরীমনি

    জন্মদিনে সুখবর দিলেন পরীমনি

    ২৪ বছরেও বেতন নেই, শিক্ষক হামিদ বিক্রি করেন কাঁঠালপাতা

    ২৪ বছরেও বেতন নেই, শিক্ষক হামিদ বিক্রি করেন কাঁঠালপাতা