দেরিতে নাশতা করলে আয়ু কমে?

প্রতীকী ছবি
সকালের নাশতায় কী খাবেন এ নিয়ে পরামর্শের শেষ নেই। কিন্তু নতুন এক গবেষণা বলছে, কী খাচ্ছেন তার পাশাপাশি কখন খাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। দিনের প্রথম ও শেষ খাবারের সময়ের সঙ্গে মানুষের আয়ুর একটি সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
গবেষকেরা যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী ৩১ হাজার ৪৪ জন প্রাপ্তবয়স্কের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের তথ্য নেওয়া হয়েছিল ১৯৯৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে পরিচালিত ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন এক্সামিনেশন সার্ভে থেকে। তারা আগের ২৪ ঘণ্টায় কী খেয়েছেন বা পান করেছেন এবং কখন খেয়েছেন, সে তথ্যও দিয়েছিলেন।
রাত ৪টার পর গ্রহণ করা যেকোনো ক্যালরিযুক্ত খাবার বা পানীয়কে দিনের ‘প্রথম খাবার’ হিসেবে ধরা হয়েছে। দিনের শেষ ক্যালরি গ্রহণকে ধরা হয়েছে শেষ খাবার হিসেবে। প্রথম ও শেষ খাবারের মধ্যবর্তী সময়কে বলা হয়েছে খাওয়ার সময়সীমা বা ইটিং উইন্ডো।
পরে এসব তথ্য ২০১৯ সালের শেষ পর্যন্ত নিবন্ধিত মৃত্যুর তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। গড়ে ৮ দশমিক ৬ বছর পর্যবেক্ষণকালে মারা যান ৭ হাজার ১২৯ জন। এর মধ্যে হৃদ্রোগজনিত কারণে মৃত্যু হয় ২ হাজার ২৫৯ জনের।
গবেষণায় দেখা গেছে, দিনের প্রথম খাবারের সময় যত পিছিয়েছে, মৃত্যুঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্ক তত বেড়েছে। যারা সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে প্রথম খাবার খেতেন, তাদের তুলনায় সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে খাওয়া শুরু করা ব্যক্তিদের সব ধরনের কারণে মৃত্যুর ঝুঁকির সঙ্গে ১০ শতাংশ বেশি সম্পর্ক পাওয়া গেছে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে প্রথম খাবার খেলে এ সম্পর্ক বেড়ে দাঁড়ায় ১৯ শতাংশে। আর দুপুর ১২টার পর প্রথম খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে তা ছিল ২৯ শতাংশ বেশি।
হৃদ্রোগজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে প্রথম খাবার খাওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় দুপুরের পর প্রথম খাবার খাওয়া ব্যক্তিদের হৃদ্রোগে মৃত্যুর ঝুঁকির সঙ্গে ৪৬ শতাংশ বেশি সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, ৫০ বছর বয়সে যাঁরা দুপুরের পর প্রথম খাবার খেতেন, তাঁদের গড় আয়ু অন্যদের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৪৬ বছর কম হতে পারে।
গবেষকদের মতে, খাবারের সময় শরীরের জৈবিক ঘড়ির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। দেরিতে প্রথম খাবার খাওয়া বা গভীর রাতে খাওয়া শরীরের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এবং চর্বি ও শর্করার বিপাকে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে গবেষকেরা বলছেন, দেরিতে খাওয়া নিজেই ঝুঁকির কারণ, নাকি খারাপ স্বাস্থ্য, ঘুমের সমস্যা বা জীবনযাপনের অন্য কোনো সমস্যার চিহ্ন সেটি এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তাই এই গবেষণার ভিত্তিতে হঠাৎ করে খাওয়ার সময়সূচিতে চরম পরিবর্তন আনার প্রয়োজন নেই।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট- স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার পাশাপাশি কখন খাচ্ছেন, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।
সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট







