ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি

সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরব নিজস্ব পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাবে। বুধবার চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সই করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দাবি, এ চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শিল্পে কয়েক শ কোটি ডলারের নতুন ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর প্রাথমিক সুবিধাভোগীদের মধ্যে থাকতে পারে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টিংহাউস, যারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত পারমাণবিক চুল্লির নকশা তৈরি করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শিগগিরই চুক্তির বিস্তারিত কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হবে। তবে ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা এবং ইসরায়েলের কর্মকর্তারা এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির আড়ালে সৌদি আরব ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করতে পারে।
এই চুক্তি নিয়ে কয়েক বছর ধরে আলোচনা চলছিল। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে এটি বৃহত্তর একটি কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ ছিল। তখন শর্ত হিসেবে সৌদি আরবের ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় ছিল। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর সেই উদ্যোগ কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চুক্তি কার্যকর হওয়ার আগে এটি কংগ্রেসের পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কংগ্রেস চাইলে এর বিরুদ্ধে আপত্তির প্রস্তাব আনতে পারে। তবে ট্রাম্পের ভেটো অতিক্রম করার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হওয়ায় চুক্তি অনুমোদনের সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
তবু কংগ্রেসে এ নিয়ে তীব্র বিতর্ক হতে পারে। সমালোচকদের অভিযোগ, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সমঝোতায় ট্রাম্প প্রশাসন এমন কিছু শর্তে সম্মত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের ক্ষমতা সীমিত করতে পারে। এতে কোনো পারমাণবিক স্থাপনা থেকে অস্ত্র তৈরির কাজে জ্বালানি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা কঠিন হতে পারে।
চুক্তির অংশ হিসেবে সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথভাবে পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনের অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সমীক্ষা চালানোর বিষয়েও সম্মতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই সমীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সৌদি আরবকে নিজ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা প্লুটোনিয়াম পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। এ তথ্য প্রথম প্রকাশ করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
চুক্তির সঙ্গে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত দুটি গোপন সম্পূরক নথিও রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব নথিতে বাণিজ্যিকভাবে সংবেদনশীল এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট তথ্য রয়েছে। তবে কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্যের ভাষ্য, গোপন নথিগুলো প্রকাশ না করা হলে তারা চুক্তির পক্ষে ভোট দেবেন না।
এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শক্তি আইন অনুযায়ী তথাকথিত ‘ওয়ান-টু-থ্রি’ চুক্তির আওতায় হয়েছে। এ ধরনের চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার নিয়ম নির্ধারণ করা হয় এবং পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার ঠেকানোর বিধান অন্তর্ভুক্ত থাকে।
এর আগে ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে একই ধরনের একটি চুক্তি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই চুক্তিতে আমিরাত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার অতিরিক্ত তদারকি মেনে নেয় এবং নিজস্ব পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনের অধিকার ত্যাগ করে। ফলে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা কার্যত সীমিত হয়ে যায়। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, সৌদি আরবের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।




