রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে উইটকফ-কুশনার ‘কিছু ভালো পরামর্শ’ দিয়েছেন: জেলেনস্কি

ইউক্রেন সফরকালে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন উইটকফ ও কুশনার- রয়টার্স
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ কীভাবে শেষ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের আলোচক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ‘বেশ কিছু ভালো পরামর্শ’ দিয়েছেন। মঙ্গলবার এমনটাই জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
সম্প্রতি উইটকফ ও কুশনার রাশিয়া ও ইউক্রেন সফর করেন। এ সময় তারা জেলেনস্কি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা করে বৈঠক করেন।
তবে পাঁচ বছরে পড়া এই যুদ্ধ কীভাবে শেষ করা যায়, সে বিষয়ে বৈঠকগুলো কোনো অগ্রগতি আনতে পারেনি।
হোয়াটসঅ্যাপে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় জেলেনস্কি বলেছেন, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে তার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে শীত মৌসুমের জন্য ইউক্রেনকে বিমান প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার একটি প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা করতে চান তিনি।
কুশনার যে শান্তি প্যাকেজের কথা বলেছেন এবং নতুন যেসব ধারণা সামনে এসেছে, সেগুলো সম্পর্কে জেলেনস্কি বললেন, ‘আমি বলতে পারি, সত্যিই বেশ কিছু ভালো ও গুরুত্বপূর্ণ ধারণা ছিল।’
তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। তিনি জানান, এসব নিয়ে আগে কাজ করার বিষয়ে কিয়েভ যুক্তরাষ্ট্রের দূতদের সঙ্গে একমত হয়েছে।
যুদ্ধের মধ্যেও অস্ত্র কেনাকাটায় দুর্নীতি, বিশাল ক্ষতির বোঝা টানছে ইউক্রেন
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যুদ্ধ কীভাবে শেষ করা যায়, তা নিয়ে ইউক্রেন ও রাশিয়ার অবস্থানের মধ্যে এখনও বড় ধরনের দূরত্ব রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান বিষয় হলো পূর্বাঞ্চলীয় দনবাসে ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবশিষ্ট ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ। মস্কো এই অঞ্চলকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করেছে। তবে বছরের পর বছর ধরে তীব্র লড়াই চললেও রাশিয়া এখনও ওই ভূখণ্ড দখল করতে পারেনি।
যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কয়েক মাস ধরে স্থবির হয়ে আছে। জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, কূটনৈতিক উদ্যোগ আবারও সক্রিয় করতে যুক্তরাষ্ট্র যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।
তার মতে, শিগগিরই ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসবেন। এর লক্ষ্য হবে তিন পক্ষের একটি বৈঠকের প্রস্তুতি নেওয়া।
পরবর্তী এ ধরনের বৈঠক তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সুইজারল্যান্ড কিংবা অন্য কোনো দেশে হতে পারে। জেলেনস্কি আশা করছেন, সেখানে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি শস্য রপ্তানি ও জ্বালানি অবকাঠামো নিয়েও আলোচনা হবে। তিনি জানান, ইউক্রেন সমঝোতার জন্য প্রস্তুত।
যুদ্ধবন্দীদের বিনিময় নিয়েও আলোচনা চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন বলে জানান জেলেনস্কি। একই সঙ্গে এসব বিনিময়ের পরিমাণ বাড়ানো এবং প্রক্রিয়াটি আরও দ্রুত করার ওপর জোর দেন তিনি।
জেলেনস্কি বললেন, ‘আমাদের শুধু আলোচনা করলেই হবে না, সুনির্দিষ্ট ফলাফলও অর্জন করতে হবে।’






