যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে নতুন শর্ত দিয়েছে তুরস্কসহ কয়েকটি দেশ

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে তুরস্কসহ কয়েকটি দেশ নতুন কিছু শর্ত ও প্রস্তাব দিয়েছে। এসব প্রস্তাবের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তবে দুই পক্ষের মধ্যে প্রবল অবিশ্বাস থাকায় সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তুরস্কের টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাকান ফিদান বলেন, ‘তুরস্ক ও অন্যান্য দেশ বিভিন্ন প্রস্তাব দিচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিতে সব ধরনের চেষ্টা করছে। কিন্তু দুই পক্ষের মধ্যে রয়েছে প্রবল অবিশ্বাস।’
তিনি জানান, এর আগে পাকিস্তানে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিল দুই পক্ষ। পরে সেই সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়ে তৈরি হয় সমস্যা। এখন উভয় পক্ষই নিজেদের স্বার্থ নিশ্চিত করে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
এদিকে সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের বাইরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন হাকান ফিদান। মক্কা ও সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে কথিত হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশটির সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও অবকাঠামোর ওপর হামলা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
এনটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, ‘আমরা সৌদি আরবের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে অত্যন্ত বিপজ্জনক হামলা দেখতে পাচ্ছি। আমাদের চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক জোটগত দায়িত্ব রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান বিরোধ ও সংঘাতের অংশ হিসেবে সৌদি আরবকে যুক্ত করা আমরা মেনে নিই না। সৌদি আরব এই সংঘাতে জড়াতে চায় না। তাই দেশটিকে এই সমীকরণের বাইরে রাখা উচিত।’
রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ফিদান। তিনি বলেন, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার কারণে সরবরাহপথে গুরুতর বিঘ্ন ও স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। আমদানিনির্ভর তুরস্কের মতো দেশগুলোর জন্য এর প্রভাব অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করছে।
অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের কিছু শর্ত মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানের মাধ্যমে এসব শর্ত জানানো হয়েছে বলে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন তিনি। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা।
এছাড়াও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভির আসন্ন তেহরান সফরে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বার্তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি প্রত্যাশা করছেন না তিনি। আগামীকাল তেহরান সফরে গিয়ে ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে নকভির।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বাঘাই বলেন, ‘অঞ্চলের একজন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনার সুযোগ খোঁজা স্বাভাবিক। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বার্তা বা প্রস্তাব পৌঁছে দেওয়ার লক্ষণ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সফরের মূল লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে আগের চুক্তিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়টি অনুসরণ করা। বিশেষ করে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যায়ে হওয়া চুক্তিগুলো নিয়ে আলোচনা করাই এর উদ্দেশ্য।’




