বিজয় দিবসে ন্যাটোর কড়া সমালোচনা করলেন পুতিন

অজ্ঞাত সেনাদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি : রয়টার্স
মস্কোর রেড স্কয়ারে বার্ষিক বিজয় দিবসের ভাষণে ন্যাটোর কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধ সমর্থন দিয়েছেন তিনি।
রেড স্কয়ারে সমবেত হয়েছেন শত শত সামরিক কর্মী। অতিথি হিসেবে আছেন কয়েকজন বিশ্বনেতাও। সকলের উপস্থিতিতে দেওয়া ভাষণে রুশ প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, তিনি একটি ‘ন্যায়সঙ্গত’ যুদ্ধ লড়ছেন।
এ সময় তিনি ইউক্রেনকে একটি ‘আগ্রাসী শক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেন। এই শক্তি পুরো ন্যাটো জোটের মাধ্যমে অস্ত্রশস্ত্র ও সমর্থন পাচ্ছে বলে দাবি পুতিনের।
পুতিন তার ভাষণের শুরুতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত সৈন্যদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ সেনাদের সাফল্য আখ্যা দিয়ে প্রশংসা ও ন্যাটোর সমালোচনা করেন।
‘বিজয়ী প্রজন্মের সেই মহান কীর্তি আজ বিশেষ সামরিক অভিযানের লক্ষ্য পূরণকারী সৈন্যদের অনুপ্রাণিত করছে। তারা পুরো ন্যাটো জোটের মদদপুষ্ট এক আগ্রাসী শক্তির মোকাবিলা করছে। তা সত্ত্বেও আমাদের বীরেরা এগিয়ে যাচ্ছে,’ বলছিলেন পুতিন।
দেশটির নাগরিকদের অবদানের প্রশংসা করে বিজ্ঞানী, উদ্ভাবক, সামরিক সংবাদদাতা, চিকিৎসক এবং শিক্ষকদের প্রশংসা করেছেন রুশ নেতা। বলেছেন, ‘সামরিক কৌশল যেভাবে পরিবর্তিত হোক না কেন, দেশের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করছে এ দেশের মানুষই।’
ভাষণ শেষ হওয়ার পরপরই কামানের গোলাবর্ষণ হয়। সঙ্গীত পরিবেশন করে সামরিক ব্যান্ড। রেড স্কয়ারের অনুষ্ঠান শেষে পুতিন ‘অজ্ঞাত সৈন্যের সমাধিতে’ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে ক্রেমলিনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
রাশিয়ার অন্যান্য প্রান্তেও বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। তবে পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় সংখ্যায় ছিল কম। ভ্লাদিভোস্তক, ক্রাসনোয়ারস্ক এবং সেন্ট পিটার্সবার্গে কুচকাওয়াজ ও ‘অমর রেজিমেন্ট’ মার্চ অনুষ্ঠিত হলেও অনেক শহরে কুচকাওয়াজ পুরোপুরি বাতিল করে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিশ্বনেতাদের মধ্যে যারা ছিলেন
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বিদেশি অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বেলারুশের নেতা আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো, মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম এবং উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শভকত মির্জিইয়োয়েভ।
এছাড়া কুচকাওয়াজের আগে ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাত করতে দেখা গেছে স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোকে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন তিনি।
গত বছরের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কুচকাওয়াজে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ব্রাজিলের লুলা দা সিলভাসহ ২৭ নেতা উপস্থিত থাকলেও এবার বিশ্বনেতাদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে নাৎসি জার্মানির পরাজয় স্মরণে প্রতিবছর দিনটি পালন করে থাকে মস্কো। দেশটিতে জাতীয় ছুটি থাকে এ দিনে। তবে এবার রাশিয়ার বিভিন্ন অংশে উদযাপন ছিল বেশ সীমিত।
উৎসবের আগে রাশিয়া ও ইউক্রেন তিন দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। শুক্রবার এর ঘোষণা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কুচকাওয়াজ শেষে কিয়েভের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে ইউক্রেন তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রথম মস্কোর বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে কোনো সাঁজোয়া যান বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন হয়নি। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রেড স্কয়ারজুড়ে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মার্চপাস অনুষ্ঠিত হয়।
মস্কোতে কুচকাওয়াজ চলাকালীন তিন দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল বলে মনে হলেও পরে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের দাবি তোলে। তবে তারা জানায়, যুদ্ধবিরতি পালন অব্যাহত রাখবে মস্কো।
এর আগে পুতিন ৮-৯ মে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিয়েভ ৬ মে থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছিল। তবে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে।







