মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পকে তিরস্কার, ইরান যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ভোট

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের লাগাম টানতে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে।
গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির চারজন সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দিয়ে এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন।
হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস এই ভোটকে ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবৈধ ও ব্যয়বহুল ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক তিরস্কার’ এবং ‘এই যুদ্ধ চিরতরে বন্ধের প্রথম পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
গ্রেগরি মিকস বলেছেন, ট্রাম্প যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন। উল্টো দেশের বাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়েছেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কূটনৈতিক সমাধান আরও কঠিন করে তুলেছেন।
গত বুধবারের ভোটাভুটিতে ২১৫-২০৮ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে এক বিরল অসন্তোষ প্রকাশ করে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির যে চারজন সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন তারা হলেন টমাস ম্যাসি, ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক, টম ব্যারেট এবং ওয়ারেন ডেভিডসন।
এ ছাড়া মেইনের ডেমোক্র্যাট সদস্য জ্যারেড গোল্ডেন এই ধরনের প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। তিনিও এবার এটি সমর্থন করেছেন।
মিশিগানের রিপাবলিকান প্রতিনিধি টম ব্যারেট বলেছেন, একমাত্র কংগ্রেসেরই যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা রয়েছে, যা আমাদের অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।
এই ভোটের কারণে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কোনো রাজনৈতিক প্রতিশোধের আশঙ্কা করছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, ‘আমি আমার বিবেক অনুযায়ী যা সঠিক মনে করেছি, সেভাবেই ভোট দিয়েছি এবং এর যেকোনো ফলাফল মেনে নিতে প্রস্তুত।’
প্রতিনিধি পরিষদে পাস হলেও প্রস্তাবটি এখন রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত মার্কিন সিনেটের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে এটি ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা পুরোপুরি খর্ব করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই প্রস্তাবে ভেটো দিতে পারেন। আর সেই ভেটো বাতিল করতে হলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে।
এর আগে গত মে মাসে সিনেটে সাত বার ব্যর্থ হওয়ার পর অনুরূপ একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল। তবে তা এখনো পূর্ণাঙ্গ ভোটে যায়নি।
সূত্র : বিবিসি




